চট্টগ্রাম থেকে: কিপিংয়ের প্রতি মুশফিকুর রহিমের দুর্বলতার কথা সবারই জানা। গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনের দায়িত্ব সামলালে পরে ব্যাটিং আরও ভালো হয়, এমনি বিশ্বাস তার। কিন্তু বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক হয়েও গ্লাভস তুলে দিয়েছেন আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ শাহজাদের হাতে।
কেনো কিপিং করছেন না? প্রশ্নের জবাবে মুশফিক মজা করে উত্তর দিয়েও বোঝালেন বাস্তবতা, ‘আমাদের টিমের যে ভদ্রলোক (শাহজাদ) এখন কিপিং করছেন, স্বাস্থ্য দেখলে বুঝবেন। তাকে ফিল্ডিংয়ে কোন পজিশনে কোথায় রাখবো?’
শাহজাদ জোর খাটিয়ে ব্যাট চালালে ভুঁড়িতে ঢেউ খেলে চর্বি। ওজনের ব্যাপারটি ব্যাটিংয়ে খুব প্রভাব পড়ে না হাতে ব্যতিক্রমী নানা স্ট্রোক থাকায়। কিন্তু বড়সড় ভুঁড়ি নিয়ে বলের পেছন পেছন দৌড়ানো খুব কঠিন কাজ শাহজাদের জন্য। যে কারণে গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত মুশফিকের দলের।
শুধু কিপিং নিয়েই নয়। শুক্রবার রাতে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হাই-স্কোরিং ম্যাচে ৭২ রানে হারের পর মুশফিক কথা বলেছেন বিপিএলের খুঁটিনাটি নানা বিষয় নিয়েও।
হেলস-রুশোর তাণ্ডব…
ওদের রান (২৩৯/৪) এত বেশি হবে ভাবিনি। বিপক্ষ টিমে এরকম ওয়ার্ল্ডক্লাস একটা টপঅর্ডার থাকবে, আর টি-টুয়েন্টি খেলাই হচ্ছে টপঅর্ডারদের। টপ থ্রি বা ফোরে যারা থাকেন, তাদের অবদান যখন বেশি হবে যেকোনো টিমেরই বড় স্কোর হবে। জানতাম, এই মাঠে আর যে উইকেটে খেলা তাতে শিশিরের জন্য একটা বড় স্কোর তাড়া করতে হবে। শিশিরের কারণেই বোলিং নিয়েছিলাম। বাড়তি ২০টা রান হলেও যেন করতে পারি। তারপরও মনে হয় আমাদের বোলাররা আরেকটু ভালো এক্সিকিউট করতে পারত। কারণ তারা এমন কোয়ালিটি ব্যাটসম্যান, ভালো একটা ইয়র্কার বা বাউন্সারও ছয় মেরে দিতে পারে। আমরা যদি ২০০-২১০ এর মধ্যে আটকাতে পারতাম, অন্যরকমও হতে পারত।
রবি ফ্রেইলিঙ্কের ইনজুরি বোলিং পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছে?
তা তো অবশ্যই। যেরকম ছন্দে ছিল বোলিং-ব্যাটিংয়ে। শেষ সাতটা ম্যাচে প্রথমদিকে বল করে একটা করে উইকেটও নিয়েছে। প্রথম দুই ওভারের মধ্যে ব্রেক-থ্রু এনেছে। ওর বোলিং আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ, আজকের (গতকাল) ম্যাচের জন্য তো আরও। গেইল শুরুতেই আউট হয়েছিল, সময়টাতে যদি আরও এক-দুইটা উইকেট নিতাম, হয়তো মোমেন্টাম আমাদের দিকেই থাকত। সেদিক থেকে অবশ্যই আমরা আনলাকি। আর ওর ওভার কাভার করার জন্য আমাদের ডিফিকাল্টি ফেস করতে হয়েছে। কারণ জেনুইন বোলাররাও বেশি ভালো করতে পারেনি। আশা করি ওর ইনজুরি খুব বেশি সিরিয়াস হবে না। দেখি, পরের ম্যাচে খেলতেও পারে।
ইয়াসির আলি রাব্বির ইনিংসটা (৭৮) কেমন লেগেছে?
এটা খুবই ভালো। যেভাবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাটিং করছে, ক্যালকুলেটিভ কিছু রিস্ক নিচ্ছে, ইনিংসগুলি যেভাবে বিল্ড করছে, আমাদের জন্য খুবই ভালো। টি-টুয়েন্টি খেলাটাই টপঅর্ডারের। ওখান থেকে রান আসাটা সবসময়ই প্লাস পয়েন্ট। আশা করছি এটা কন্টিনিউ করবে ও। শেষ কয়েকটা ম্যাচে ভালো স্টার্ট পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেনি, আজকে পেরেছে। আশা করি ৮০ প্লাস বা হান্ড্রেড করতে পারবে। টিমের জন্য বেটার হবে।
এই ম্যাচটা বাদ দিলে চিটাগং দলটাকে অন্যভাবে দেখছি। এখনও শীর্ষে, আপনিও ফর্মে। এর কারণ?
যখন যেটা প্রয়োজন, কারও ব্যাটিংয়ে রান দরকার সে ক্লিক করছে, যখন একটা উইকেট দরকার, পাচ্ছে। স্পেশালি ফ্রন্টের বোলার, রবি, রাহি ও খালেদরা ভালো করছে। নাঈম ভালো করেছে। ওভারঅল সবাই খুব ভালো বোলিং করেছে। ফিল্ডিংয়ে ম্যাক্সিমাম সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভালো করেছি। তিনটা ম্যাচ শেষ ওভারে জিতেছি। এটা প্রমাণ করে সবাই শান্ত থাকার চেষ্টা করছি, সেভাবে সেরাটা দেয়ার করার চেষ্টা করছি। ভাগ্যও পক্ষে আছে। শেষ আট ম্যাচে অনেক ক্লোজ ম্যাচ জিতেছি। এটা অনেক সময় নাও থাকতে পারে। আপাতত সাথে ভাগ্যটা আছে। চেষ্টা করবো চট্টগ্রামেই আরেকটা ম্যাচ যেন জিততে পারি। যেন পয়েন্ট টেবিলে এক-দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারি।
জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আপনি ছাড়া অন্যরা কেনো ধারাবাহিক হতে পারছে না?
সবাই চেষ্টা করে, এটা তো শুধু আমি না। জাতীয় দলে যারা আছে, সবাই অবশ্যই চেষ্টা করে। আমাদের যে রেপুটেশন, অবশ্যই আমাদের ভালো খেলা দরকার। আমাদের কাছে বিপিএলের যেকোনো টিমই ভালো প্রত্যাশা করে। অনেক দলের ৩-৪টা ম্যাচ বাকি, অবশ্যই তারা ধারাবাহিকভাবে রান করা শুরু করবে। চেষ্টা করবো যেভাবে রান করছি, আরও বড় বড় রান করতে পারি। বড় বিষয় হল, আমি ১০ করি আর ৭০, টিম যেন জেতে। আর দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রানটা আমি করতে চাই। সেদিক থেকে ফোকাসড থাকার চেষ্টা করি। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করি।
কিপিং কেনো করছেন না? কিপিং না করাতে কি ব্যাটে রান বেশি পাচ্ছেন?
কিপিং করেও তো অনেক রান করেছি বিপিএলে। তৃতীয় বা চতুর্থ আসরে সাড়ে চারশর মতো রান করেছি। সম্ভবত দ্বিতীয় সেরা ছিলাম। টিমের কম্বিনেশনের কারণেই কিপিং করছি না। আমাদের টিমের যে ভদ্রলোক এখন কিপিং করছেন, স্বাস্থ্য দেখলে বুঝবেন, তাকে ফিল্ডিংয়ের কোথায় রাখতে হবে (হাসি), এটা আমার জন্য খুবই কঠিন। টিমে আরও ২-৩ জন ফিল্ডার আছে, যারা টি-টুয়েন্টির আদর্শ ফিল্ডার বলা যাবে না। এরকম চার-পাঁচজন হলে কঠিন হয়ে যায়। টিম ম্যানেজমেন্টের সবাই বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি টিমের স্বার্থে হলেও যেন বেস্ট কম্বিনেশন হয়। এজন্যই। সে কিপিং খারাপ করছে না। টিমও ৬টা ম্যাচ জিতেছে, সবকিছু ভালই চলছে।








