চট্টগ্রাম থেকে: হারের চোখ রাঙানি নিয়ে শুরু হওয়া পঞ্চমদিনে বীরত্ব দেখালেন মুমিনুল হক ও লিটন দাস। তাদের চতুর্থ উইকেট জুটি বদলে দিয়েছে ম্যাচের চেহারা। তাতে জহুর আহমেদে নিয়ন্ত্রণে থেকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে টাইগার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও অল্প কথায় বুঝিয়ে দিলেন মুমিনুল-লিটনের
অবদানের কথা।
‘আমাদের কথা হয়েছিল ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে থাকার জন্য। উইকেট আজও খুব ভাল ছিল। মুমিনুল ও লিটন কষ্ট করে ব্যাটিং করেছে। তাদের কষ্টের ফল পেয়েছি আমরা। মূল কৃতিত্বটা তাদেরই দিতে হবে।’
২০০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ হোঁচট খেয়েছিল চতুর্থ দিনের শেষ ঘণ্টায়। ইমরুল, তামিম, মুশফিক বিদায় নিলে। দলীয় রান তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই নেই টপঅর্ডার। ৮১ রান নিয়ে পঞ্চমদিন শুরু করা মুমিনুল-লিটনের জুটি থামে দলীয় ২৬১ রানে। দুজনের ১৮০ রানের জুটি ভাঙে মুমিুনলের বিদায়ে (১০৫)। পরে নার্ভাস নাইনটিজে (৯৪) লিটন থামলে হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক। তাদের জুটি ফিফটির দিকে যাওয়ার আগেই ড্র মেনে নেয় লঙ্কানরা। দিনের খেলা তখনও ১৬ ওভার বাকি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০ ওভার খেলে বাংলাদেশ তুলেছে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রান। স্বাগতিকদের লিড ১০৭ রানের। আড়াই সেশন ব্যাট করে শেষদিনে বাংলাদেশ হারায় মাত্র দুটি উইকেট।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯ ম্যাচে বাংলাদেশের ড্র এল তৃতীয়বার। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জহুর আহমেদেই লঙ্কানদের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচ মুমিনুলের সেঞ্চুরিতে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সাঙ্গাকারার ট্রিপল সেঞ্চুরির ম্যাচে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন মুমিনুল। এবারও মুমিনুলময় টেস্ট হয়ে থাকল সাগরিকার বুকে।
প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলে ৫১৩ রানের সংগ্রহ এনে দিয়েছেন মুমিনুল। শ্রীলঙ্কা ৭১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে চোখ রাঙানি দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আরেকটি সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে হাথুরুসিংহের শিষ্যদের সব হিসেব বদলে দেন ‘বাংলার ব্র্যাডম্যান’ খ্যাত মুমিনুল। তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্টের উভয় ইনিংসে শতক করা প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার বনে গেছেন।









