দিনাজপুরের একটি ছবির শুটিংয়ের যাওয়ার পথে আজ সোমবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকাই ছবির সুপরিচিত খল অভিনেতা মিজু আহমেদ। আকষ্মিক মৃত্যুতে শোকাচ্ছান্ন হয়ে পড়েছেন চলচ্চিত্রে তার সহকর্মীরা। শোক জানিয়েছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি,প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি(বাচসাস)সহ বিভিন্ন সংগঠন। চলচ্চিত্রে তার সহকর্মীরা কিছুতেই মানতে চাইছেন না মিজু আহমেদ আর নেই। সহকর্মীর এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে চ্যানেল আই অনলাইনকে শোকাচ্ছন্ন অনুভুতি জানিয়েছেন।
ইলিয়াস কাঞ্চন, অভিনেতা
কিছুতেই মানতে পারছি না মিজু আহমেদ নেই। আমি এখনই হাসপাতালে যাচ্ছি। কথা বলতে পারছি না। এক নজরের জন্য হলেও তাকে দেখতে চাই। তিনি আমার অনেকদিনের সহকর্মী। চলচ্চিত্রে একসঙ্গে পথ চলার এ মানুষটি নেই, এটা ভাবতেই পারছি না।
চম্পা, অভিনেত্রী
আমি স্তম্ভিত হয়ে গেছি তার মৃত্যুতে। মিজু ভাইয়ের মারা যাওয়ার খবরটি পাওয়ার কিছুক্ষণ আগেও আমি তার অভিনীত ‘বাপ বেটা ৪২০’ ছবিটি দেখছিলাম। ছবিটি দেখতে দেখতে ভাবছিলাম এতো ভালো অভিনয় কিভাবে করতে পারে একজন মানুষ। আমিও তো সেখানে অভিনয় করেছিলাম। শুটিং স্পটেই দেখেছিলাম কিভাবে নিজের চরিত্রটি নিয়ে ভেবেছেন তিনি। শুধু তাই চরিত্রটি কিভাবে আরো পারফেক্টলি করা যায় তা নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন। মনে পড়ছিল সেই ছবির এসব কথা। কিন্তু এসময় এমন একটি খবর পেলাম যেটা আসলে আমার জন্য রীতিমত শকিং। আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না তার মৃত্যু।
আলীরাজ, অভিনয়শিল্পী
মিজু ভাইয়ের মৃত্যুর আমার কাছে খুবই দুঃখজনক। একসঙ্গে কত ছবিতে অভিনয় করেছি আমরা। এই তো সেদিন আমরা দুজন টগবগে তরুণ ছিলাম। একসঙ্গে অভিনয় করেছি ‘উত্তর-দক্ষিণ’ নামের একটি ছবিতে। এখানে আমার দুজন কেবল মারামারি করতাম। সবশেষ তার সঙ্গে অভিনয় করেছি রাজ্জাক ভাইয়ের ‘পুড়ে যায় মন’ ছবিতে। তার সঙ্গে কত স্মৃতি আমার। তবে আল্লাহর কাছে শোকর করি তিনি রোগভুগে মারা যাননি। আমি প্রার্থণা করি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।
ওমর সানি, অভিনয়শিল্পী
এই তো সেদিনও দিতি আপার মৃত্যুর একবছর পালন করছিলাম এফডিসিতে। মিজু ভাই এসেছিলেন। দিতি আপাকে নিয়ে কথা বলার কিছুদিনের মধ্যে তিনিও চলে গেলেন। এমনটা মানা মিজু যায় না। সেদিন তার সঙ্গে কত কথা হয়েছিল সেদিন। ভাইয়ের প্রথম প্রযোজনার ছবি ‘চালবাজ’ এ আমি অভিনয় করেছি। তিনি আমার উপর ভরসা করেছিলেন আমার চলচ্চিত্র জীবনের শুরু আর এ পর্যন্ত। চলচ্চিত্রে তিনি আমার অভিভাবকতুল্য ছিলেন। এমন মানুষ আমি আর কোথায় পাবো। কেন এতো তাড়াতাড়ি চলে গেলেন মিজু ভাই।
নিরব, অভিনয়শিল্পী
মিজু ভাই নেই, এটা ভাবতেই পারছি না। ‘তুমি আসবে বলে’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করা হয়েছে। তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি খুব স্পষ্টবাদী ছিলেন। মিজু ভাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন। এমন অভিভাবক আমি হারালাম, কষ্ট হচ্ছে খুব।
মুশফিকুর রহমান গুলজার, সভাপতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি
ভাবতেই পারছি না মিজু ভাই নেই। এই তো সেদিন চলচ্চিত্রের উন্নয়ন আর দিবস পালনে আমরা মিটিং করলাম। আজ তিনি নেই, ভাবা যায়? তিনি একজন উচুঁ মাপের অভিনেতা। তিনি শুধু অভিনেতাই নন একজন সফল সংগঠকও তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে চলচ্চিত্র শিল্প একজন গুণী মানুষকে হারালো। জানি না এই অভাব পুরণ হবে কিনা। তবে তিনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।
বদিউল আলম খোকন , মহাসচিব, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি
তার সঙ্গে প্রথম ছবিতে কাজ করি ‘আত্মবিশ্বাস’ এ। তখন আমি যখন সহকারি পরিচালক ছিলাম। পরিচালক হিসেবে তার সঙ্গে আমার প্রথম কাজ ‘নিঃশ্বাসে আমার তুমি’ ছবিতে। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না তিনি নেই। অনেক বড় মাপের অভিনেতা তিনি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তিনি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করতেন। এমন একজন মানুষের চলে যাওয়া আত্ববিশ্বাস নামে মেনে নেওয়া একটু কষ্টকর।








