প্রত্যেকটা বন্দুক হামলা বা সন্ত্রাসের পরে আমেরিকায় এতো সহজে এতো বন্দুক কেমনে / কেন পাওয়া যায় এইটা নিয়ে আলাপ শুরু হয়। যেহেতু বাংলাদেশিরা এই বন্দুক ইস্যুটাতে অনেক উৎসাহী তাই কিছু অবজেকটিভ পয়েন্টস দিচ্ছি আমেরিকার বন্দুক প্রীতির কিছু কারণ বর্ণনা করে।
১) আমেরিকা হচ্ছে আমার জানা মতে খুব সম্ভবত একমাত্র দেশ, যেখানে খোদ সংবিধানে দেশের সাধারণ নাগরিকদের ছোট খাটো সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া গঠনের অনুমতি দেয়া আছে। মিলিশিয়া মানে হইলো নাগরিকরা এক সাথে এক জায়গায় জড়ো হবে, সেনাবাহিনীর মতো পোশাক কিনবে, মিলিশিয়ার একটা নাম দিবে, তার পরে বন্দুক, গুলি নিয়ে একেবারে কমান্ডো স্টাইলে সেনাবাহিনীর মতো প্রশিক্ষণ নিতে পারবে সম্পূর্র্ণ বেসরকারি ভাবে। এবং এই কাজটা তারা করবে আমেরিকার সরকার যাতে কোনদিন সাধারণ নাগরিকের উপর অত্যাচারি শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ন হইতে না পারে সেইটা প্রতিহত করতে।
আমেরিকার সংবিধানের এইটা একটা অসাধারণ চেক এন্ড ব্যালান্স। উপরের বিষয়টা আবার একবার পড়ে দেখেন যদি এইটা প্রথম শুনে থাকেন।
যদিও সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কী কী ধরণের অস্ত্র নাগরিক মিলিশিয়ারা রাখতে পারবে না। যেমন নাগরিক মিলিশিয়া মেশিন গান রাখতে পারে না, কিংবা কামান ট্যাংক রাখতে পারে না। ৬৫% আমেরিকান বন্দুক কিনে এই বিশ্বাস থেকে যে এতে করে তাদের সরকার কোনদিন তাদের উপর মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতে পারবে না । আমেরিকার আর্মির সাথে কেউ মারামারি করার জন্যে বন্দুক কিনতেছে সেইটা শুনলে আমাদের অনেকের কাছেই হাস্যকর লাগতে পারে , কিন্তু নাগরিক মিলিশিয়া গঠনের এই অধিকারটা যে সংবিধানেই দেয়া আছে, এইটা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই।
২) আমেরিকাতে জমির দাম বাংলাদেশি হিসাবে পানির মতো। মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় (ডলার না, টাকা) এক একর জমি পাওয়া যায় সারা আমেরিকা জুড়ে এভারেজ হিসাবে (কোথাও কোথাও অনেক বেশিও আছে)। কাঠা না কিন্তু, একে বারে একর।
এই কারণে আমেরিকার গ্রাম অঞ্চল গুলোতে অনেক বাসা আছে যেগুলো ৩০-৪০ একর জমির উপরে, কোন কোন ক্ষেত্রে ২০০-২০০০ একর জমির উপরে। একটা ফুটবল খেলার মাঠ হচ্ছে ১ পয়েন্ট ৩ একর। তাইলে বুঝেন ২০-৩০ একর জমি কতবড় জমি? প্রায় ১৫-২০ টা ফুটবল খেলার মাঠের সমান।
এই রকম বড় একটা জমি নিয়ে যারা গ্রামের অঞ্চলে থাকে, তাদের বাসায় যদি ডাকাত ঢুকে, কিংবা কোন বড় জন্তু যেমন ভাল্লুক বা হায়েনা বা নেকড়ে ঢুকে পরে, পুলিশ ডাইকা কোন কাজ হবে না। নিজের প্রতিরক্ষা নিজের করতে হবে। এই কারণে, আমেরিকার গ্রাম অঞ্চলের মানুষকে বলা হয় যে, তারা তাদের বাসায় গান (বন্দুক) আর গড (ঈশ্বর) নিয়ে পরে থাকে।
৩) সরকারের হাত যাতে প্রাইভেট লাইফে প্রবেশ না করে সেইটা নিশ্চিত করাটা একটা খুব পুরানো আমেরিকান লিবার্টি বা স্বাধীনতার চেতনা। আমেরিকার গ্রামের মানুষরা মনে করে সরকার তাদের গান (বন্দুক) আর গডের মধ্যে খালি ‘বাম হাত’ দিতে চায়, মানে অনাধিকার প্রবেশ। যেমন গডে ইতিমধ্যেই সরকার অনেক কিছু করেছে। যেমন সমকামীদের বিয়ে হচ্ছে, গর্ভপাত বৈধতা পাইছে, বাচ্চাদের সেক্স এডুকেশন শিখানো হচ্ছে ইত্যাদি।
তারা আরও মনে করে সরকার একবার কোন বিষয়ে কিছু করতে চাইলে প্রথমে তা টার্গেট করে আর পরে ‘বাম হাত’ দেয়। এই কারণেই অনেক আমেরিকান বন্দুক বিষয়ে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণই মানতে চায় না। তারা ভাবে সরকার শুরু করবে বড় নল ওয়ালা এসাল্ট বন্দুক নিষিদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে। তার পরে একদিন সরকার কোন বন্দুকই আর রাখতে দিবে না। এই কারণে তারা কোনো ধরণের গান কন্ট্রোলই শুরু করতে দিতে চায় না।
গণতন্ত্র ও স্বাধীনচেতা মার্কিন জনগণের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এই গান বা বন্দুক ইস্যুটা আসলেই জটিল।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








