সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মর্যাদা সম্পন্ন ‘দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড’। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতিতে হয়েছে এই অনুষ্ঠান। আর এখানে প্রথম বারের মতো সংগীতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘দাদাসাহেব ফালকে এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করলেন বাংলাদেশের কৌশিক হোসেন তাপস।
সোমবার ভোরে ভারত থেকে সোজা ফ্লাইটে করে ঢাকায় অবতরণ করলেন ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এর উদগাতা তাপস। ঢাকায় ফেরা মাত্রই তাকে নিয়ে শুরু হয় রীতিমত উৎসব। শুধু পরিবারের নয়, দেশের তারকা শিল্পীদেরও উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত এই সংগীত পরিচালক। এদিন দুপুরেই এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে। অনন্যা রুমার প্রযোজনা ও দিলরুবা সাথীর উপস্থাপনায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন ‘দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড’ নিয়ে। সঙ্গে এসেছিলেন তার সহধর্মীনি ফারজানা আরমান মুন্নী।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি কথা বলেন চ্যানেল আই ও চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে। ভারতের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে এই সংগীত পরিচালক জানান: দাদা সাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিত হওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। প্রথমে আমি কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। বলিউডের সব নামিদামি তারকারা। তাদের মধ্যে একমাত্র আমিই শুধু বাংলাদেশি। তারা একে একে সম্মাননা নিচ্ছে, দর্শক সারিতে থাকা অন্যরা তুমুল হাত তালি দিচ্ছে। যথচ আমার নাম ঘোষণার সময় কোনো চাঞ্চল্য দেখা গেলো না। এরজন্য আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলাম। নাম ডাকার সঙ্গে সঙ্গে আমি মঞ্চে উঠেনি। তখন স্টেজের বিশাল স্ক্রিনে চলছিলো আমার এভি। যা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল কড়তালি পড়লো পুরো অনুষ্ঠানে। তখন আমার মনে হল কাজই আসলে সব। ভালো কাজ করলে মানুষকে মূল্যায়ন করতেই হবে। এমনকি দেখলাম ‘বাহুবলী’র রানা দাগ্গুবতি তখন আমাকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করলো। এটাই তৃপ্তি!
এদিকে দাদা সাহেব ফালকের মতো বিশাল অর্জনের কাছেও মানুষের ভালোবাসাকেই এগিয়ে রাখছেন তাপস। জানালেন: আসলে অ্যাওয়ার্টটি নিয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকে খুব ভালো লাগছে। পরিবার, স্বজনতো আছেই প্রচুর মানুষ আমাকে সাধুবাদ জানালেন। অসংখ্য মেসেজ আমি পেয়েছি। আমাকে অভ্যর্থনা দিতে আর্টিস্টরা পর্যন্ত বিমানবন্দরে চলে গিয়েছিলো। মানুষের এমন ভালোবাসা কোনো কিছুর বিণিময়ে পাওয়া সম্ভব না। আর এই যে আমার প্রতি মানুষের এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে মনে হচ্ছে, দেশের জন্য হয়তো কিছু একটা করার যাত্রা শুরু করলাম।
এছাড়াও ভারতের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার অর্জনকে বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের সংগীত শিল্পের অর্জন বলেও মন্তব্য করেন কৌশিক হোসেন তাপস। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরণের অর্জন দেশের সংগীত অঙ্গনকে আরো এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতেও ভিন্নধর্মী কাজের মাধ্যমে দেশীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান এ সংগীত পরিচালক।
আর এতো অল্প সময়ে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার পথ সুগম করেছেন স্ত্রী ফারজানা আরমান মুন্নী, এমনটাই মন্তব্য করেন তাপস। জানালেন, ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এর সমস্ত কিছুর ডিজাইন, ভাবনা থেকে শুরু করে সবকিছুর দেখভাল করেন মুন্নী। সে না থাকলে মিউজিক নিয়ে এমন জার্নি কখনো সম্ভবত হতো না বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠান পরবর্তী সময়ে ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করায় চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাপস। বলেন, আমি নিজেকে সব সময় চ্যানেল আই পরিবারের একজন সদস্য মনে করি।
এরপর কথায় কথায় জানালেন ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’-এর আগামী সিজনে থাকছে মস্ত চমক। এরইমধ্যে এফডিসিতে চলছে সেট নির্মাণের কাজ। শিগগির শুরু হবে শুটিং।








