কক্সবাজার থেকে: প্রচারণা নেই, তারপরও আছে দর্শকের ভিড়। কয়েকটি এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু তা নিয়েও আছে বিভ্রান্তি। দর্শকদের অভিযোগ আগেরদিন মাইকে টিকিটের দাম শুনেছেন একশ টাকা, মাঠে এসে জানছেন দুইশ ছাড়া দেখা যাবে না মুমিনুল-নাসিরদের খেলা।
পর্যটননগরী কক্সবাজারে বসেছে আট জাতির ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের আসর। সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ঘেঁষে গড়ে ওঠা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পাশাপাশি দুটি মাঠে লড়ছে ‘বি’ গ্রুপের চার দল। ‘এ’ গ্রুপের খেলা চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ও এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক বাংলাদেশের সব ম্যাচ কক্সবাজারে হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের চোখ এখানেই। তাদের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের আপডেট জানছেন ক্রিকেটভক্তরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে এই টুর্নামেন্ট ঘিরে নেয়া হয়নি প্রচার-প্রচারণার তেমন কোন উদ্যোগ। এখানে বেড়াতে আস পর্যটকরাও জানতে পারছেন না এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) এই টুর্নামেন্ট সম্পর্কে! আলোকসজ্জা দূরের কথা, শহরের কোথাও নেই ব্যানার বা ফেস্টুন। স্টেডিয়ামের মূল ফটকে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপ করেছে ব্র্যান্ডিং। তার ফাঁকে ছোট অক্ষরে কয়েক জায়গায় লেখা টুর্নামেন্টের নাম।
প্রচারণা না থাকলেও সোমবার বাংলাদেশ-হংকং উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে আসেন হাজারখানেক দর্শক। উৎসাহ নিয়ে উপভোগ করেন মুমিনুল-নাসিরদের খেলা। ইমার্জিং টাইগারদের দাপুটে জয় দেখে ফেরেন বাড়ি। স্বাগতিকদের দ্বিতীয় ম্যাচ মঙ্গলবার দুই নম্বর মাঠে। এদিন দর্শক পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে থাকছে শঙ্কা। কারণ টিকিটের মূল্য নিয়ে অসন্তোষ, নানা ভোগান্তি ও দুই নম্বর মাঠে গ্যালারি না থাকা।
রোববার রাতে কয়েকটি এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয় টিকিটের দাম ১০০ টাকা। সকালে প্রবেশদ্বারে দাঁড়াতেই দর্শকরা দেখেন টিকিটের দাম দ্বিগুণ। সব টিকিটের গায়ে মূল্য লেখা ২০০ টাকা। এ নিয়ে অভিযোগ আর আক্ষেপ ঝড়ল দর্শকদের কণ্ঠে। কেন এমন হলো তার সদুত্তর দিতে পারেননি কক্সবাজারে আসা বিসিবি কর্তারাও।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘প্রাণ’ দর্শক। ক্রিকেটারদের সাফল্যের নেপথ্যে সবসময়ই শক্তি হিসেবে কাজ করেন তারা। মুমিনুল-নাসিরদের সে উৎসাহ জানাতেই আসছেন দর্শকরা। স্থানীয় যুবক আখতার আলী বললেন, ‘উদীয়মান ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে টিকিটের ব্যবস্থা না রাখলেই সবচেয়ে ভালো হতো। আরও দর্শক মাঠে আসতো খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে। এশিয়ার অন্য দেশগুলো দেখতে পারতো ক্রিকেটকে আমরা কতটা ভালবাসি। সেখানে ২০০ টাকা টিকিটের দাম এটা তো ভাবাই যায় না।’
এই টুর্নামেন্টের আয়োজক বাংলাদেশ হয়েছে হঠাৎ করেই। ব্যস্ত সূচি থাকায় আরব আমিরাত অপারগতা জানালে বাংলাদেশ আয়োজক হয় এটির। মাঠ ও মাঠের বাইরের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা দেখলে মনে হবে জোর করেই বুঝি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে টুর্নামেন্টটি!








