আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে এই প্রথমবার মাঠে এসেছেন আফরোজা আবেদীন রীনা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর স্ত্রী। বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতেই স্বামীর সঙ্গে এবার দুবাইয়ে এসেছেন তিনি।
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা সবার। তবুও হাসিমুখে মাঠ ছাড়ছেন। জয় তখনও আসেনি, কিন্তু সুনিশ্চিত জয়ের আনন্দে সবকিছু তো সহ্য করাই যায়।
স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দেওয়া ২৬২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা তখন ধুঁকছে। তাদের ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ছোট্ট একটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা কিছু সময়ের জন্য ম্যাচটাকে বিরক্তিকর করে তুলেছিলো। ঠিক তখনই স্ত্রীকে নিয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে হোটেলে রওনা হন নান্নু। সেখানেই কথা।
রীনা বলেন, ‘মাঠে যে আসা হয় না তা নয়। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে খেলা দেখতে এই প্রথমবার স্টেডিয়ামে আসলাম। সব সময় মনে হয় মাঠে গেলে হয়তো ওর কাজের সমস্যা হতে পারে, বা মনোযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে নিজেকে খুবি লাকি ভাবছি যে আজ বাংলাদেশ এতো ভালো খেলেছে, খুব আনন্দ নিয়ে ফিরছি। ইনশাআল্লাহ আরও অনেক কিছু হবে এখানে।’

মিনহাজুল আবেদীন নান্নুও দুবাইয়ে খেলে গেছেন। শারজায় ১৯৯৫’র এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৬ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৭ বলে ২৬ রান করা নান্নু ছিলেন দলের টপ স্কোরার। লঙ্কানরা জিতেছিলো ১০৭ রানে।
২৩ বছর পর এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। সেই লঙ্কানদের ১৩৭ রানে হেসেখেলে হারিয়ে এশিয়া কাপ মিশন শুরু হল টাইগারদের। তবুও পা মাটিতে রাখছেন প্রধান নির্বাচক। বললেন, ‘এখনো অনেকদূর যেতে হবে। আফগানিস্তান ম্যাচের আগে দল নিয়ে আরও কাজ আছে।’
প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবালের ইনজুরি মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর কাজ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ড্যাশিং ওপেনারের জায়গায় এখন মাঝপথে কাকে নিচ্ছেন?
প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই গাড়িতে ওঠেন নান্নু আর তার স্ত্রী রীনা। স্টেডিয়ামে তখন বাঁধনহারা উল্লাস। গরমের উত্তাপ নিমিষে শীতল করে কানে আসে ‘বাংলাদেশ…বাংলাদেশ’ জয়ধ্বনি।








