টানা তিন ম্যাচ জিতে যে দল ফাইনালে এসেছিল, সেই দলটি টানা দুই ম্যাচ হেরে শিরোপা হাতছাড়া করল! প্রথম হারটি ১০ উইকেটে, আরেকটি ৭৯ রানে, ৫৩ বল হাতে রেখে। প্রতিপক্ষ একই, লঙ্কা। হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা। তবে বেশি পোড়াবে দ্বিতীয় হারটি। শিরোপা হাতছাড়া করা হার। অথচ আগের ম্যাচ হারার পর অধিনায়ক নিজে বলেছিলেন, এটি তাদের জন্য একটি বার্তা। বার্তা শেষ পর্যন্ত মাশুলের বিনিময়ে আবারও বার্তা হয়েই ফিরে এসেছে মাশরাফীদের কাছে।
মুখে যতই বলা হোক অতিআত্মবিশ্বাস দলকে ছুঁয়ে যায়নি, সেটি ধোপে টিকছে না কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে। যে ছেলেটি গোটা সিরিজে একটি ম্যাচেও মাঠে নামেননি, সেই তিনি কেন ফাইনালে? পরিকল্পনাহীনতা? অদূরদর্শীতা?
একাদশ নিয়ে প্রশ্ন নেই। নেই বলতে গতানুগতিক কথা। যতদিন ক্রিকেট থাকবে, ততদিন পৃথিবীর সব একাদশ নিয়ে কেউ না কেউ প্রশ্ন তুলবেন। আজ প্রশ্নটা দূরে সরিয়ে অন্য আলোচনা করা যাক।
মোহাম্মদ মিঠুন ওপেনে অফফর্মে থাকা বিজয়ের জায়গায় নামতেই পারেন। সেটা যদি করতে হয়, তবে আগের ম্যাচে তাকে আবহাওয়া বোঝার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল। মেহেদী হাসান মিরাজ যদি ফাইনালই খেলবেন, তবে আগে একটি ম্যাচে তাকেও সেই সুযোগ কেন দেয়া হয়নি?
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল হারার পেছনে এ গেল মাঠের বাইরের কথা। ২২২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে গেমপ্ল্যানেও মার খেয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিপক্ষ পাঁচ পেসার নিয়ে মাঠে নামে। তার মানে উইকেট স্পিন সহায়ক ছিল না। আবার বাংলাদেশের মূল শক্তি কিন্তু স্পিনে। সে কথা স্মরণ করে প্রথম ১২ ওভারে মিরাজকে নিয়ে আক্রমণে বহাল থাকেন মাশরাফী। ম্যাচের প্রায় অর্ধেকটা সময় সাকিব, মোস্তাফিজ, রুবেল আক্রমণে সেভাবে আসেননি। ডেথ ওভারের ভয়ে তাদের জিইয়ে রাখার কৌশল শতভাগ ফ্লপ। মোস্তাফিজ, রুবেল কী করতে পারতেন, সেটা তারা দেখিয়েছেন; কিন্তু ম্যাচের অর্ধেকের পর।
(পড়ুন: রুবেল-ফিজের বোলিংয়ে সম্ভাবনার টার্গেট। )
শ্রীলঙ্কার ২২১ রানের মধ্যে ১২৬টি শর্টরান ছিল। বাংলাদেশ সেখানে ২৪৭ বলের (৪১.১ ওভার) ডট দিয়েছে ১৬৬টি!
মাপা শর্টবল। অধিকাংশ বডিলাইনে। কয়েকটি গুডলেন্থে। সেগুলো আবার লাফিয়েছে। পেসারদের দিয়ে এমন পরিকল্পিত আক্রমণ করে শ্রীলঙ্কা। আগের ম্যাচেও একইভাবে বাংলাদেশকে ৮২ রানে অলআউট করেছিল হাথুরুর ছেলেরা।
তামিম ইকবাল ওই শর্টবলে পুল করতে যেয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১৮ বলে তার সংগ্রহ ছিল ৩। মিঠুন ২৭ বলে ১০ করেন। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া সাব্বির পথ ধরেন ৯ বলে ২ করে। লড়াইটা বাঁচিয়ে রাখেন রিয়াদ-মুশফিক।
৫৮ রানের জুটি গড়েন দুজনে। মুশফিক ফেরেন তার প্রিয় সুইপ খেলতে যেয়ে। যাওয়ার আগে ৪০ বলে ২২ করে যান। মিরাজ (৫), সাইফ (৮), মাশরাফীর (৫) যাওয়া-আসার মাঝে একপ্রান্ত ধরে থাকেন রিয়াদ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শেহান মাদুশাঙ্কার হ্যাটট্রিকের শিকার হন। অভিষেকে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। রিয়াদ ৭৬ রানে আউট হন। সঙ্গীর অভাবে তাকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়েছে কীভাবে একটি ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।
সাকিব যদি ব্যাট করতে পারতেন! এই আক্ষেপ যারা করছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন ম্যাচ হারার আগে ক্রিকেটীয় পরিকল্পনায় হেরে বসেছিল স্বাগতিকরা। এমনদিনে সাকিবের ওই ‘নিবেদন’ হয়তো আক্ষেপ হয়ে থাকবে। যন্ত্রণা কমাবে না!







