ভারত-পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে ফ্লাডলাইট বসানোর কৃতিত্ব দাবি করে স্পেন-মরক্কো সীমান্তের ছবি ব্যবহার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক মাধ্যম টুইটারে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হতে হচ্ছে।
স্পেন-মরক্কো সীমান্তের সেই ছবি ব্যবহার করে ভারত সরকারের অসাধারণ অর্জন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের কীর্তি বলে উল্লেখ করা হয় মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে। বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় তারা ফ্লাডলাইট বসিয়েছে।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ছবিটি আসলে স্পেন-মরক্কো সীমান্ত এলাকার ছবি। অল্ট নিউজ ওয়েবসাইট প্রথম এই মিথ্যা ছবি ব্যবহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ওয়েবসাইটটি জানায়, ২০০৬ সালে স্প্যানিশ আলোকচিত্রী হাভিয়ার মোয়ানো ওই ছবিটি তুলেছিলেন সেউটা দ্বীপে।
প্রচারিত ছবিটির দৃশ্য ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের মতো নয় এবং সেখানে দূরে সাগরও দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়গুলো নিয়েই সংশয়ের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ঘাটতে গিয়ে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানায় অল্ট নিউজ। স্পেন ও মরক্কো দেশ দুটির মধ্যে সাগর রয়েছে এবং স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর উটা ও মেলিলা আফ্রিকার উত্তর উপকূলে অবস্থিত।মরক্কোর ভূখন্ডের সাথে স্থলসীমান্ত থাকা স্পেনের এই শহরগুলোর সাথেই বেড়া ও ফ্লাডলাইট দেয়া রয়েছে। সেই ছবিই ভারত সরকারের কৃতিত্ব দাবি করে হাস্যরস ছড়িয়েছে ভারত সরকার।
এই চরম বিব্রতকর অভিযোগ ওঠার পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে এর আগেও সরকারি প্রেস বিবৃতি বা রিপোর্টে ভুয়া কিংবা ফোটোশপ করা ছবি ব্যবহারের জন্য অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। এনডিটিভি জানায়, এই ঘটনা সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব মেহরিষি কর্মকর্তাদের কৈফিয়ত তলব করেছেন। তিনি বলেছেন, “যদি দেখা যায় এটা মন্ত্রণালয়ের ভুল, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষমা চাইব।”
ভারতের সরকারি পরিচালনাধীন প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো ২০১৫ সালে চেন্নাইয়ের বন্যা সরেজমিনে পরিদর্শনরত প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ছবি টুইট করেছিল- যেটি পরিষ্কার বোঝা গিয়েছিল যে এডিট করা!
অল্ট সংবাদ সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন এই কারসাজি ধরিয়ে দেওয়ার পর ভারতেই অনেকে সরকারকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন।

ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোখার জন্য অবশ্য সত্যিই ফ্লাডলাইট বসানোর কাজ শুরু করেছে। বার্ষিক প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে এরই মধ্যে ৬৪৭ কিলোমিটার বা ৪০২ মাইল এলাকাতে ফ্লাডলাইট বসানো হয়ে গেছে।
কিন্তু এই তথ্যের সঙ্গে কীভাবে একটি ভুল ছবি প্রতিবেদনে জায়গা করে নিল, সেটাই এখনও বোঝা যাচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা বলছেন।








