মুশফিক নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, সাকিব নেই নিষেধাজ্ঞায়, সাইফউদ্দিন চোটে, ইমরুলকে দলে রাখা হয়নি। আছেন তামিম, মাহমুদউল্লাহ, রুবেল। আন্তর্জাতিক আঙিনায় অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলা সৌম্য, লিটন, মোস্তাফিজদের সঙ্গী একেবারেই তরুণ আফিফ, নাঈম, শান্তরা। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতায় এই মিশেলে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল বাংলাদেশ।
শুক্রবার পাকিস্তানের মাটিতে তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজে নেমে পড়ার আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে দলের তরুণ সদস্যদের উপর আস্থা রাখার কথা জোর দিয়েই বললেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন অভিজ্ঞদের কথাও। সবমিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললেন, ভালো খেলে পাকিস্তানে সিরিজ জিততে চায় বাংলাদেশ।
দুপুর ৩টায় শুরু বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিটি। বুধবার রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দেশটিতে নামে টাইগারদের বহন করে দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট। বৃহস্পতিবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ঘাম ঝরিয়েছে দল। শুক্রবার এখানেই সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি।
তার আগে দলের তরুণ সদস্যদের নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক। সদ্যগত বঙ্গবন্ধু বিপিএলে দারুণ খেলা আফিফ, নাঈম, আমিনুলদের পাশে শক্ত কাঁধে দাঁড়ালেন যোগ্য নেতার মতোই। তাদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে জানালেন, অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে যদি দল হয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ, সাফল্য আসবে।
‘বিপিএলে যদি দেখেন, ওখানে পারফর্ম করা একঝাঁক তরুণ আছে আমাদের দলে। তাদের উপর আমাদের আস্থা আছে। দলে অভিজ্ঞরাও আছে। আমি, সৌম্য, তামিম, মোস্তাফিজ, রুবেল অনেকদিন ধরে খেলছি। আল-আমিন, শফিউল আছে। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেল আছে। ভালো পারফরম্যান্স সম্ভব। তরুণদের সামনে এটি ভালো সুযোগ। তারাও নিজেদের মেলে ধরতে মুখিয়ে আছে।’
নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। টিম হোটেল থেকে স্টেডিয়াম, চুন থেকে পান খসার যেন সুযোগ নেই! মাহমুদউল্লাহর অবশ্য এমন আঁটসাঁট পরিস্থিতিতে অস্বস্তি হচ্ছে না। নিরাপত্তা নয়, বললেন- সকলে কেবল ক্রিকেট নিয়েই ভাবছেন।
‘দুশ্চিন্তা বিমানে ওঠার সময়ই আমরা ফেলে এসেছি। পাকিস্তানে আমরা কেবল ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। এটা নিয়েই ভাবছি। ভালো কিছু করতে মুখিয়ে আছি সকলে। পাকিস্তান আমাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাটাই দিচ্ছে। তাদের সবকিছু নিয়ে আমি খুশি।’
নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো নয়, একেবারে বন্দীদশার মতো অবস্থা যদিও। সেটিতেও ইতিবাচক দিকই খুঁজে নিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ, ‘এটার ইতিবাচক দিকও আছে। দলের সকলে একসঙ্গে অনেক সময় কাটাতে পারছে। এটা ইতিবাচক। দল হয়ে খেলার জন্য।’
মারকুটে ক্রিকেটের সংস্করণ টি-টুয়েন্টিতে এপর্যন্ত ১০বার প্রতিপক্ষ হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। এই সিরিজের স্বাগতিকরা ৮টিতেই জিতেছে, বিপরীতে বাংলাদেশের হাসি কেবল দুই ম্যাচে। সেই দুটি আবার দুদলের সবশেষ তিন দেখাতেই। হোক না সেটা সেই ২০১৫ আর ২০১৬ সালের মতো বেশ অতীতে। আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হতে জয় তো জয়ই।
টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে একেবারে মন্দ খেলছে না। এই ফরম্যাটের আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তান শীর্ষে, টাইগাররা নয়ে। তবে নিকট অতীতে বেশ ভালো খেলেছে লাল-সবুজরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘরের মাটিতে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠে বৃষ্টির জন্য ট্রফি ভাগ করতে হয়েছিল। নভেম্বরে ভারতে গিয়ে জিতে সিরিজ শুরুর পর তৃতীয় ম্যাচে নাকের ডগা থেকে জয় ফসকেছে।
প্রতিপক্ষের প্রতি যথার্থ সম্মান রেখেও তাই নিজেদের সামর্থ্যে প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে রাখছেন টাইগার দলপতি, ‘পাকিস্তান খুব শক্তিশালী দল। টি-টুয়েন্টিতে তারা বেশ ভালো। ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। র্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে। আমাদের টি-টুয়েন্টি পারফরম্যান্স ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েক সিরিজে ভালো করেছি। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমরা সিরিজ জিততে পারি।’








