টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতের সঙ্গেও লড়াই করতে পারল না বাংলাদেশ। টানা দুই হারে সেমিফাইনালের আশা থমকে গেল। শনিবার সেন্ট ভিনসেন্টে ভারতের দেয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দেড়শর আগেই থামে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪০ রান।
মন্থর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে হার মানতে হয়েছে ৫০ রানে। কুড়ি ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে থামতে হয় ১৪৬ রানে। রিশাদ হোসেন ১০ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস হারের ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছে।
দুইশর কাছাকাছি লক্ষ্যেও ঝড়ো সূচণা করতে পারেনি বাংলাদেশ। দলীয় পঞ্চাশ ছুঁতেই লেগে যায় ৮ ওভার। লিটন দাসের (১০ বলে ১৩) উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ৮ ওভারে তুলে ৫০ রান। তাতেই বড় হার লেখা হয়ে যায় ভাগ্যে। তানজিদ হাসান তামিম ২৯ রান করলেও খেলেন ৩১ বল। যা দুইশর কাছাকাছি রান তাড়ায় মোটেও মানানসই ছিল না।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে বার বার টেনে তুলছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তারা অবশ্য ভারতের বিপক্ষে ক্লিক করেননি। শুরুতে রান রেটে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে হেসেখেলে হারিয়েছে ভারত।
বাঁহাতি স্পিনার কুলদ্বিপ যাদবকে সামলাতে বেশ হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। ৪ ওভারে ১৯ রানে তিন উইকেট তুলে নেন। আরশদ্বীপ সিং ও জাসপ্রিত বুমরাহ দুটি করে উইকেট নেন।
স্যর ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে সাকিব আল হাসান টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন ঠিকই কিন্তু ৩ ওভারে হজম করেন ৩৭ রান। তানজিম হাসান সাকিব পরে জোড়া শিকারের দেখা পেলেও ভারতের রানের লাগাম টেনে ধরা যায়নি। সুপার এইটের ম্যাচে বাংলাদেশকে বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় ভারত।
সেন্ট ভিনসেন্টে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত তোলে ১৯৬ রান। হার্দিক পান্ডিয়া ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করে অপরাজিত থাকেন।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলীয় ৩৯ রানে রোহিতকে আউট করে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। পরে জোড়া শিকারের দেখা যান তানজিম হাসান সাকিব। কোহলিকে বোল্ড করেই থামেননি। ওই ওভারেই সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান। চলতি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১১ উইকেট শিকার করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিকারি তরুণ পেসার।
কোহলি আউট হওয়ার পর নেমেই বাউন্সারে ছক্কা মেরে শুরু করেন সূর্যকুমার। পরের বলটি অফস্টাম্পের বাইরে করেন তানজিম। এজ হয়ে পর ধরা পড়েন লিটন দাসের বিশ্বস্ত গ্লাভসে। ৩ বলের মধ্যে কোহলি আর সূর্যকুমারের উইকেট পরায় ভারতের রানের লাগাম কিছুটা টেনে ধরতে পেরেছিল বাংলাদেশ।
কিন্তু রিশাব পান্তের ঝড়ো ব্যাটিং ভারতকে রাাখে বড় সংগ্রহের পথে। ২৪ বল থেকে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে এ বাঁহাতি রিশাদ হোসেনকে উইকেট দিয়ে ফেরেন। শিভম দুবে ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে রিশাদের দ্বিতীয় শিকারে পরিনত হন। টাইগার লেগ স্পিনার ৩ ওভারে খরচ করেন ৪৩ রান। পান্ডিয়া তিন ছক্কা,, চার চারে ভারতকে নিয়ে যান বড় সংগ্রহে।
ভারতকে বিশ্ব আসরে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেই একটা সময় জ্বলে উঠত বাংলাদেশ। কিন্তু সম্প্রতি দুই দলের সামর্থের বিরাট পার্থক্য ধরা পড়ছে। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ভারতের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করেছিল শান্তবাহিনী।