ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু সঙ্গে যৌনকর্ম করার জন্য ১৭ বছর বয়সে বাধ্য করে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভার্জিনিয়া জোফ্রে নামের এক নারী।
বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জোফ্রে নামের ওই নারী দাবি করেছেন, লন্ডন ও নিউইয়র্কে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর দ্বারা তিনি যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
তবে শুধু এখানে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর নামটিও আসেনি এ কাজে সহযোগিতা করার জন্য তার বন্ধু জেফরি এপস্টেইনের কথাও এসেছে। যে শিশু-কিশোরীদের পাচার ও জোর করে যৌনদাসীর কাজ করানোর মতো গুরুতর অভিযোগে কারাবাসে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন এই মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন।
তবে এ সমস্ত অভিযোগ বরাবরের মতোই নাকচ করে আসছেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
মূলত, ৬৬ বছর বয়সী এপস্টেইনের বিরুদ্ধে নতুন কিছু অভিযোগের আইনি নথিপত্র প্রকাশ্যে আসার এক দিন পর ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট রহস্যজনকভাবে মারা যান তিনি। যে কারণে তার মৃত্যুকে ঘিরে বেশ কিছু ষড়যন্ত্রতত্ত্বও সামনে এসেছে।
এরপরই জোফ্রের অভিযোগের বিষয়ে ২০১৯ সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রু মন্তব্য করেছিলেন যে, এরকম কিছু কখনো ঘটেনি।
‘আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারি, এরকম কখনোই ঘটেনি। ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে কখনোই পরিচয় হয়েছে বলে আমার মনে পড়ছে না,’ বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন।
এই খবরের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাকিংহ্যাম প্যালেস এবং ডিউক অব ইয়র্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।
মামলায় বলা হয়েছে,তাকে লন্ডন, নিউইয়র্ক ও ক্যারিবীয় এলাকায় কয়েকবার প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সংসর্গে বাধ্য করা হয়েছিল। ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। ক্যারিবীয় এলাকায় অ্যান্ড্রুর বন্ধু জেফরি এপস্টেইনের মালিকানাধীন একটি দ্বীপে তাকে রাখা হয়েছিল।
নিউইয়র্কের শিশু নির্যাতনবিরোধী আইনকে গত বছর গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো যুগান্তকারী বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এর ফলে যারা অপ্রাপ্ত বয়সে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, যেসব অপরাধ জানা যায়নি বা বিচার হয়নি, সেগুলোর বিচার প্রাপ্তির পথ তৈরি হয়েছে।
২০১৯ সালে আইনটি জারি করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে এর আগে যেসব অভিযোগ আনা যায়নি, সেসব অভিযোগ দায়ের করার জন্য এক বছর সময় দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেই সময়সীমা এই বছরের ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।







