বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা না করায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সমবেশ ও শোভাযাত্রা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বেতন স্কেলের পাশাপাশি তাদের মর্যাদার বিষয়টিকেও সামনে এনেছেন শিক্ষকরা।
সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে সোমবার সরকারি কর্মচারিদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।
ওই বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি দাওয়ার প্রতিফলন না ঘটায় এবং তাদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে কর্মবিরতি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, পে কমিশনের রিপোর্ট দেখে খুব হতাশ হয়েছি। শিক্ষকরা অনেক বেশি হতাশ ও ক্ষুব্ধ। মে মাসের ১৪ তারিখ থেকে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। সেটা অনেক মিডিয়াতেও এসেছে। কিন্তু নতুন পে স্কেলে সেটা সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করেনি। ওই সংক্রান্ত সুপারিশগুলো যেন দ্রুত কেবিনেটে যায় এবং আমাদের ব্যাপারে যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেটাই আমাদের চাওয়া। শিক্ষকরা অনেক দিন ধরে আশা করে আছেন।
শিক্ষকদের দাবির মধ্যে আছে, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দ্রুত বাস্তবায়ন, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপকদের বেতন ও মর্যাদা সিনিয়র সচিবদের সমান করা, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের গাড়ি ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ সম্মানজনক অর্থ বরাদ্দ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য তরুণ শিক্ষকদের বৃত্তি বা স্কলারশিপ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব বলেন, আমরা বলেছি আমাদের একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো দেওয়া হোক। এবং বেতন ঘোষণার আগে একটি কমিশন গঠন করা হোক। সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদেরকে সিনিয়র সচিবের সমতুল্য বেতন ও সমমর্যাদা দেওয়া হোক, এই ঘোষণায় সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
সমাবেশের পর শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেটা শেষ হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মবিরতি পালিত হয়।







