ঘড়ির কাটার সঙ্গে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শুরুর সময় টিকটিক করে কমে আসছে। অংশ নিতে যাওয়া দেশগুলো এরইমধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। প্রায় সব দলই অভিজ্ঞ-তারুণ্যের মিশেলে গড়া। তারপরও দেখা যাচ্ছে, কোনো এক দল বয়সে এগিয়ে তো আরেক দল তারুণ্যে বেশি ভরপুর। এক দল ম্যাচ খেলায় এগিয়ে তো অন্য দল সেঞ্চুরিতে। দেখে নেয়া যাক বিভিন্ন দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের রকম ফের…
বয়স্ক স্কোয়াড
বিশ্বকাপ দল ঘোষণা আগে অনেক কথা হয়েছে, কেমন দল ইংল্যান্ডে পাঠাবে শ্রীলঙ্কা। চিন্তা-ভাবনার পর অভিজ্ঞদের উপরই আস্থা রেখেছে লঙ্কান বোর্ড। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের জন্য যে স্কোয়াড শ্রীলঙ্কা গড়েছে, তার গড় বয়স ২৯.৯ বছর।
বোলিং আক্রমণে দুই অভিজ্ঞ সেনানিকেই রেখেছে ১৯৯৬ চ্যাম্পিয়নরা। পেসার লাসিথ মালিঙ্গা ৩৫, সুরাঙ্গা লাকমালের বয়স ৩২। সাম্প্রতিক সময়ে খারাপ পারফরম্যান্সের পরও ক্যারিশমাটিক অলরাউন্ডার ৩১ বছরের অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসকেও রাখা হয়েছে। ৩৬ বছরের ‘চিরতরুণ’ জীবন মেন্ডিস তো সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন সেই ২০১৫ সালে। কিন্তু আরেকবার বিশ্বকাপ ভাগ্য খোলার আশায় ড্রেসিংরুমে তার বিশাল অভিজ্ঞতার ভান্ডারে ভরসা করেছে শ্রীলঙ্কা।
বয়স্ক স্কোয়াডের তালিকায় খুব একটা পিছিয়ে নেই সাউথ আফ্রিকা এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দুদলের স্কোয়াডেরই গড় বয়স ২৯.৫ বছর। তবে ইংলিশ-প্রোটিয়াদের চেয়ো কিছুটা তরুণ অস্ট্রেলিয়া। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডের গড় বয়স ২৯.৪ বছর। তিনটি দলই ওয়ানডের জন্য একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে।
অভিজ্ঞদের সঙ্গে দারুণসব তরুণদের যুক্ত করেছে এই তিনটি দল। প্রোটিয়া দলে আছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় ইমরান তাহির। ৪০ বছর বয়সেও যার উৎসাহ এবং মানসিক উদযাপনে কোনোভাবেই বয়স প্রতিফলিত হয় না।
তরুণ স্কোয়াড
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে তরুণ স্কোয়াড পাকিস্তানের। ‘ম্যান অব গ্রিন’দের স্কোয়াডের গড় বয়স ২৭.৩ বছর। রাষ্ট্রীয় সীমানা ভাগাভাগির মতো এখানে পাশাপাশি আছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। আফগান স্কোয়াডের গড় বয়স ২৭.৪ বছর।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পাকিস্তান যেমন ১৯ বছরের দুই তরুণ শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাসনাইনের উপর ভরসা রেখেছে, তেমনি আফগানিস্তানও ২০ বছরের রশিদ খান ও মুজিব-উর রহমানের উপর আস্থা রেখেছে। রশিদ আবার আইসিসির ওয়ানডে বোলিং টেবিলের তিননম্বর বোলার।
বেশি ওয়ানডে খেলা স্কোয়াড
বয়স যথেষ্ট ক্রিকেট অভিজ্ঞতার সংকেত দিতে পারে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি অপরিহার্যভাবে প্রয়োজন হয় না। তরুণ স্কোয়াডের দিক থেকে ভারত চারনম্বর দল। কিন্তু এই দলটাই আসছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা স্কোয়াড। ভারতের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের খেলা ওয়ানডে ম্যাচের সংখ্যা ১৫৭৩।
এক্ষেত্রে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতো অবস্থা বাংলাদেশ-ভারতের। ধোনি-কোহলিদের চেয়ে ২৭৪ ম্যাচ কম নিয়ে বেশি ওয়ানডে খেলা স্কোয়াডের তালিকায় দুই নম্বরে টাইগারা (বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজের পর ব্যবধান আরও কমবে)।
ভারতীয় স্কোয়াডে থাকা সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এপর্যন্ত খেলেছেন ৩৪১টি ওয়ানডে। বিশ্বকাপজয়ী এ অধিনায়কের গড়ও চোখ ধাঁধানো ৫০.৭২। আইসিসি টেবিলের একনম্বর ব্যাটসম্যান ও ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির নামের পাশে ২২৭টি ওয়ানডে। আইসিসি টেবিলের দুইনম্বর ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা খেলেছেন ২০৬টি ম্যাচ। সবমিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ভারতীয় দল।
বিশ্বকাপ মঞ্চের লড়াইয়ে নামার আগে অভিজ্ঞতার কমতি নেই বাংলাদেশ দলেও। অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (২০৫), সাকিব আল হাসান (১৯৫), তামিম ইকবাল (১৮৯টি) ম্যাচ খেলেছেন। একসঙ্গে এটাই হয়তো তাদের শেষ বিশ্বকাপ। মুশফিকুর সম্প্রতি বলেছেন, ‘দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকা দলগুলোর মধ্যে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বকাপ দল।’ তার এই কথা ঠিক হতে পারে।
বেশি সেঞ্চুরির স্কোয়াড
এই জায়গায় ভারতের সামনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চল। ভারতীয় স্কোয়াডে থাকা ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরির সংখ্যা ৯০টি। এরমধ্যে অধিনায়ক কোহলির একারই আছে ৪১টি সেঞ্চুরি, যা বিশ্বকাপে তার প্রতিপক্ষদের নিশ্চিতভাবেই চিন্তায় রাখবে। এছাড়া রোহিত (২২), শেখর ধাওয়ান (১৬) এবং ধোনি (১০), তাদের নামের পাশের এই একাধিক সেঞ্চুরিও অন্যদের জন্য হতাশাজনক হতে পারে।
মোট সেঞ্চুরিতে এগিয়ে থাকলেও আলাদা আলাদা খেলোয়াড়ের সেঞ্চুরি হিসাবে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড। শুধু ভারত নয়, এক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ড বা সাউথ আফ্রিকার চেয়েও এগিয়ে ইংলশিরা। স্বাগতিক স্কোয়াডে থাকা সাতজন ব্যাটসম্যান তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। বাংলাদেশ স্কোয়াডের আছে ছয় ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি। এখানে ভারত, নিউজিল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকা প্রত্যেক স্কোয়াডে আছেন পাঁচজন করে ব্যাটসম্যান, যারা সেঞ্চুরি করেছেন।
সেঞ্চুরি বিভাগে সবচেয়ে পিছিয়ে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এই দুই দেশের পুরো স্কোয়াড মিলে সেঞ্চুরি সংখ্যা ১২। আফগান-লঙ্কানদের দুই স্কোয়াডের চেয়ে একাই দ্বিগুণ সেঞ্চুরি করেছেন ক্রিস গেইল (২৫টি)। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে, আফগানিস্তান তাদের প্রথম ওয়ানডে খেলেছে ২০০৯ সালে, যার ১০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে অভিষেক হয়েছে গেইলের।
সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়া স্কোয়াড
উইকেট নেয়া সবসময়ই কঠিন, সেটা হাই-স্কোরিং পিচে আরও কঠিন হয়ে যায়। তবে যারা বল সুইং করাতে পারেন, তাদের জন্য ইংলিশ কন্ডিশন আশাই দিচ্ছে। কারণ, ইংল্যান্ডের গ্রীষ্মকালীন হালকা-শীতল বাতাসে সুইং বোলারদের বহু সাফল্যের গল্প আছে।
এক্ষেত্রে সবার উপর আছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়স্থানে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ৮২৯ উইকেটের পাশে লঙ্কানদের উইকেট সংখ্যা ৮১৫। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৫৯ উইকেট নিয়ে দলকে নেতৃত্ব দেবেন মাশরাফী। আর টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়া বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। তিনি নিয়েছেন ৩২২ উইকেট। ৩৫ বছর বয়সেও শ্রীলঙ্কার বোলিং বিভাগের গুরুদায়িত্বটা তার কাঁধেই।








