‘আমার পরিকল্পনা ছিল ভারত-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আট টেস্ট ম্যাচে (আসলে হবে সাত ম্যাচ) স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন করা। এখনো সেটাই ভাবছি। ইচ্ছা আছে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা। যদি এই দুই সিরিজে আমি শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ না করি, হয়ত যেকোনো দিন টেস্টকে বিদায় জানাতে পারি। আমি এখনো জানি না সামনের ১২টা মাস আমার কেমন যাবে!’
ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে এই ছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথা। ভিলিয়ার্স ভারতের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট খেলে ফেলেছেন। শতক না পেলেও তিন অর্ধশতক ছিল। কিন্তু খেলেই পড়েছেন চোটে। ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থটিতে তার ফিরতে ফিরতে সিরিজই প্রায় হাতছাড়া করে বসে প্রোটিয়ারা। পরে হেরেছে টি-টুয়েন্টি সিরিজও।
চোট আর সেই সিরিজ থেকে শিক্ষা নিয়েছেন ভিলিয়ার্স। ডারবানে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে তাই আকাশে-বাতাসে একটিই কথা, এই সিরিজ শেষেই টেস্ট ছাড়বেন প্রোটিয়া মারকুটে ব্যাটসম্যান। লক্ষ্য বিশ্বকাপে খেলা, ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে ক্যারিয়ার দীর্ঘ করা।
ভিলিয়ার্সের টেস্ট ছাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে নতুন এফটিপি থেকেই। ২০১৯ বিশ্বকাপের পরপরই শুরু হবে নতুন এফটিপি। শুরু হবে আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। তখন টেস্ট খেলতে হবে প্রায় সবগুলো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই। তার আগেও সমানে থাকছে ব্যস্ততা। ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিট থাকার ব্যাপার তো আছেই। ইদানিং মাঠের থেকে বাইরেই বেশি থাকতে হচ্ছে এবিকে, ঘনঘন চোটে পড়ায়। সবকিছু বিবেচনা করেই হয়ত চলতি সিরিজ শেষেই সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ভেবে রেখেছেন এবি। অন্তত ডু প্লেসিসের কথা শুনলে তেমন মনে হওয়া স্বাভাবিকই।
কিন্তু ভিলিয়ার্সকে হারানো যে বড় ক্ষতি হবে সেটি জানেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিসও। তাই দলের অন্যতম স্তম্ভকে ধরে রাখার সব চেষ্টাই করছেন, কিন্তু কাজ হয়নি, ‘আমি দলের সবার হয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। সুতরাং সবাই যা আশঙ্কা করছে আমি সেই একই আশঙ্কা করছি।’
আশঙ্কাটা ভিলিয়ার্সের সাদা পোশাক তুলে রাখার। কেবল ভিলিয়ার্সই নন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে ইংল্যান্ড চলে যাবেন প্রোটিয়া পেসার মরনে মরকেল। কলপ্যাক চুক্তিতে খেলবেন কাউন্টি ক্রিকেটে। একইসঙ্গে মরকেল ও ভিলিয়ার্সকে বিদায় জানানোর ধাক্কাটা প্রোটিয়ারা কীভাবে কাঁটিয়ে ওঠে সেটাই এখন দেখার।







