ধর্মপ্রচার আর ধর্মীয় রীতিনীতি চর্চায় তাবলীগ জামায়াতের রয়েছে শান্তিপ্রিয় একটি ইমেজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাবলীগ জামায়াতের দুই গ্রুপের দলাদলি আর হানাহানিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজধানীর পাশে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীড়ে অনুষ্ঠিত হতো ‘বিশ্ব ইজতেমা’, যা এবছর অনুষ্ঠিত হয়নি নিরাপত্তার স্বার্থে।
তবে আশার কথা, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক সমঝোতা হয়েছে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে। ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে একসাথে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তাবলীগ জামায়াতের দুইপক্ষই। বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক মনে হয়েছে।
তাবলীগ জামায়াতের আয়োজনে ‘বিশ্ব ইজতেমা’র সমাবেশটি বিশ্বে সর্ববৃহৎ বলে বিবেচিত। পবিত্র হজের পরেই এখানে বেশি সংখ্যক মুসলমান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে উপস্থিত হয় বলে ধারণা করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নাগরিক প্রচেষ্টা আর সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সারাবিশ্বে এই সমাবেশটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। আমরা চাই সেই ধারা অব্যহত থাকুক এবং কোনো হিংসাত্মক ঘটনার অবতারণা যেনো না হয়।
ধর্মের নামে কোনো ধরণের উগ্রবাদ সমর্থন করে না ইসলাম ধর্মসহ কোনো ধর্ম। কিন্তু তারপরেও যুগে যুগে কুচক্রী আর মৌলবাদীরা সাধারণ ধর্মপ্রাণদের ধর্মের নামে জঙ্গিবাদের দিকে টানার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই বিষয়টি সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে বলে আমরা মনে করি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের যে উত্থান ও তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের যে পদক্ষেপ, তা প্রশংসার যোগ্য। বিশ্ব ইজতেমাসহ দেশের যেকোনো ধরণের ধর্মীয় আয়োজন শান্তিপূর্ণ হবে, এই আমাদের আশাবাদ।







