ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টি ও টেস্ট পর্যায়ক্রমে যখন যে ফরম্যাটেই খেলার সুযোগ এসেছে প্রমাণ করেছেন নিজেকে। অল্পদিনেই জাতীয় দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ক্যারিয়ারের উঠতি সময়ে মুদ্রার উল্টোপিঠও দেখা হয়ে যায়। এক বছর খেলা হয়নি রঙিন পোশাকে। হতাশার দিন পেছনে ফেলে আবার যখন ফিরলেন টি-টুয়েন্টি দলে তখন এই বিরতিটা খুব লম্বা মনে হচ্ছে এই তরুণের। মুখিয়ে আছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে খেলতে।
চোখের ইনফেকশনের কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। কয়েকমাস ঘরে বসেই কাটান মোসাদ্দেক। তাতে কিছুটা মুটিয়ে গিয়ে ফিটনেস খারাপ হয়ে গিয়েছিল। নিজেকে আগের জায়গায় নিতে কেটে গেছে আরও কয়েকমাস। ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রমাণ করার পর খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত মনে করেন নির্বাচকরা। সর্বোচ্চটা দিয়ে জাতীয় দলে অবস্থান মজবুত করার সংকল্প এই তরুণের মাঝে। রোববার বিকেলে জাতীয় দলের অনুশীলনে দলে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
ছোট একটা বিরতি কাটিয়ে আবার জাতীয় দলে ফিরলেন।
মোসাদ্দেক: বিরতিটা ছোট না আমার কাছে। অনেক বড়, প্রায় এক বছর পর আমি আবার রঙিন পোশাকে খেলব বাংলাদেশ দলের হয়ে। আমার কাছে এটা ভালো লাগারই বিষয়। নতুন সুযোগ আমার জন্য।
নির্বাচকরা আস্থা রেখেছেন। এখন আফগান সিরিজ নিয়ে কী লক্ষ্য?
মোসাদ্দেক: নিজের উপর বিশ্বাসটা আমারও আছে। একজন খেলোয়াড়ের ভালো সময়, খারাপ সময় যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমার খারাপ সময় গেছে। সামনে কি হবে বলতে পারব না। তবে আমার চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চটা দেওয়ার।
এই বিরতির সময় কী উপলব্ধি হল?
মোসাদ্দেক: যদি আমি চিন্তা করি অনেক কিছুই করে ফেলব, তাহলে এটার ফলাফল কিছুই আসবে না। আমি যদি চিন্তা করি আমি আমার জায়গাতে থাকব, আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে হয়ত এখান থেকে অনেক ভালো কিছু করতে পারব।
পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে স্বাচ্ছন্দ্য নন বলে কথা আছে। এ ব্যাপারটা কীভাবে ওভারকাম করতে চান?
মোসাদ্দেক: আমি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হয়ত ২৫-২৬টা ম্যাচ খেলেছি। এরমধ্যে তিন থেকে চারটা দেশের মাটিতে। বাকি সব ম্যাচ দেশের বাইরে। আমার যে সফলতা আছে সব দেশের বাইরে। দেশের বাইরে যাদের বিপক্ষে খেলছি ওখানে স্পিনার বলতে নাই আসলে। সব পেস কন্ডিশন। এখন আপনারাই ভালো বলতে পারবেন কী পরিস্থিতি ছিল বা কী কন্ডিশন ছিল। এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে আমি পেস বলে ভালো না স্পিন বলে ভালো। সেটা হয়ত সময়ই বলে দেবে।
কতটা আশা করেছিলেন দলে থাকার ব্যাপারে?
মোসাদ্দেক: আমি জাতীয় দলে যতটুকু খেলেছি, আমার নিজের যতটা আত্মবিশ্বাস আছে এবং যেমন রেপুটেশনের খেলোয়াড় আমি। সব ঠিক থাকলে এবং পারফরম্যান্স থাকে তাহলে বাদ পড়ার কথা না। ওই একটা বিরতি, একটা অতীত আমার জন্য। ওটা নিয়ে চিন্তা করছি না। সামনে যা তা নিয়েই ভাবছি।
প্রিমিয়ার লিগে অনেকগুলো ম্যাচ ফিনিশ করেছেন ব্যাট হাতে। ওই পারফরম্যান্স দলে ফেরায় সহায়ক হল কিনা?
মোসাদ্দেক: প্রিমিয়ার লিগের শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে হয়ত আটটাতেই আমি অপরাজিত ছিলাম। এটা আমার জন্য অনেক প্লাস পয়েন্ট। কত রান করেছি সেটা মুখ্য না। ওটা নিয়েই ফোকাস করছি।
আফগান সিরিজে আপনার নিজের ভূমিকা নিয়ে কতটা প্রস্তুত?
মোসাদ্দেক: যেকোনো ম্যাচে আমি যখন বোলিং করি, তখন ভাবি যে আমি বোলার হিসেবে খেলছি। বল হাতে পেলে চিন্তা করি কিভাবে ডট বল করা যায়। ব্যাটসম্যানকে বুঝে বল করার চেষ্টা করি।
আইপিএল দেখে আফগানিস্তান সম্পর্কে কোনো ধারণা হল কিনা?
মোসাদ্দেক: আইপিএল দেখে আসলে আমরা যাদের সঙ্গে খেলতে যাব তাদের বিচার করতে পারবেন না। আইপিএলে তাদের (আফগান) ব্যাটসম্যানরা কেউ খেলছে না, বোলাররা খেলছে। আমরা ব্যাটসম্যানদেরকে চিন্তা করি যে ওরা এবিডি ভিলিয়ার্সের মতো মারবে বা বিরাট কোহলির মতো মারবে তাহলে ভুল চিন্তা হবে। ওদের সঙ্গে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, ওদের দুর্বলতা জানি। ওদের শক্তি আর দুর্বল জায়গা খুঁজে বল করা আমাদের কাজ হবে।
ওদের স্পিন সামলানো নিয়ে কী ভাবছেন?
মোসাদ্দেক: ওদের দুজন স্পিনার আছে, খুব ভালো। তারা খুব সফল বোলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এটা নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়। আমরা যদি চিন্তা করি যে অনেক রান করে ফেলব, অনেক কিছু করে ফেলব, অনেক অ্যাটাকে যাব সেটাও ভুল হবে। আবার অতিরিক্ত রক্ষণে যাওয়াও ভুল হবে। তারা আইপিলে খুব ভাল বল করছে। আইপিএলে যাদের বিপক্ষে বল করছে তারা হয়ত তাদের জায়গাতে সফল হচ্ছে। এমন হতে পারে আমাদের সাথে তারা ভালো জায়গায় বল নাও করতে পারে। বা তারা যে বল করবে আমরা যেন ভালো ম্যানেজ করতে পারি। ওদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের উপর ফোকাস করা উচিত, নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখা উচিত।








