হঠাৎ কলেজের এক বান্ধবীর সাথে দেখা। গত বছরের ঘটনা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমি তখন বসে আছি। আমার বান্ধবীর কোলে এক শিশু। আর হাত ধরে আছে আরেকটা। লন্ডন থেকে একাই দেশে বেড়াতে এসেছে। আমি আমার বউ বাচ্চার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম। ওর কোলের বাচ্চাটা হঠাৎ কেঁদে উঠলো। ও আমার স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে বাচ্চাকে খাওয়াবে কোথায়?
প্রশ্নটা শুনে আমিও বিব্রত। কারণ কী বলবো? ঢাকার এতো বড় বিমাবন্দরে যে এতোটুকুও জায়গা নেই যেখাকে কোন মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবে। আমার স্ত্রীকে দেখলাম ও মহিলাদের নামায ঘরে গিয়ে বিবর্ণ মুখে জানাল, মহিলাদের নামাযঘর কিংবা বাথরুম। আমার ওই বান্ধবী এরপর বাচ্চাকে খাওয়াতে গেল। আর আমার মনে প্রশ্ন জাগলো আমাদের কারও মাথায় কী কাজ করে না যে বাচ্চাদের খাওয়ানোর অন্তত একটা জায়গা রাখতে পারে।
আমি টুকটাক বিদেশে গেছি। প্রায় সব বিমাবন্দরেই দেখেছি বাচ্চাদের খাওয়ানোর জায়গা আছে। এই যে এখন বসে আছি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এই বিমানবন্দরে একটু পরপর সুন্দর কার্টুন ও ছবিসহ লেখা আছে চাইল্ড কেয়ার রুম। এখানে মায়েরা বাচ্চাদের খাওয়াতে পারে। পোশাক বদলাতে পারে। অ্যারাইভাল ও ডিপারর্টারে মোট কতোগুলো যে চাইল্ডরুম আছে গুনে শেষ করা যাবে না। ও হ্যাঁ ভারতের এই বিমানবন্দর গতবছর সেবার দিক থেকে বিশ্বের সেরা হয়েছে।
আমি বলছি না ভারতের মতো বিমানবন্দরে অর্ধতশত চাইল্ড কেয়ার রুম লাগবে। কিন্তু যাওয়া আসার পথে আন্তর্জাতিক ও বহির্গমন পথে অন্তত একটি করে তো থাকবে? আচ্ছা আমাদের দেশে বিমানবন্দরে এতো রেস্টুরেন্ট, কয়েকদিন পর পর মানি একচেঞ্জ গজিয়ে ওঠে অথচ বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য এতোটুকু জায়গা হয় না কেন?
আমি জানি না গত ছয় মাসে বাচ্চাদের খাওয়ানোর কোন জায়গা নতুন করে হয়েছে কী না। না হলে আপনারা যারা বিমানবন্দরের দায়িত্বে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলবো, আপনারা কী একটু ভেবে দেখবেন? প্রতিদিন শত শত দেশি বিদেশি মা বিমানবন্দর দিয়ে যান। নিশ্চয়ই তাদের কষ্ট হয়? একটু কী ভাববেন তাদের জন্য? নাকি এইটার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ লাগবে।
যদি লাগে তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলছি, একটু দেখবেন কী যাতে করে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই জায়গাতেই আসা যাওয়ার পথে বাচ্চাদের খাওয়ানোর একটু ব্যবস্থা থাকে। দেশের সব বিমানবন্দরে চাইল্ড কেয়ার রুম থাকা উচিত, যাতে করে একটা শিশু কেঁদে উঠলেই মা তাকে নিয়ে খাওয়াতে পারে। আমাদের বাচ্চারা সুন্দর একটা মানবিক দেশে বড় হবে, আমার এই চাওয়াটা নিশ্চয়ই বেশি কিছু নয়। আশা করছি সবাই ভাববেন। সুন্দর হোক বাংলাদেশ। সুন্দর থাকুক এ দেশের শিশুরা।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







