কোরবানি নিয়ে চিন্তা দূর করছে তথ্যপ্রযুক্তি আর আধুনিক ব্যবস্থা। অনলাইনেই যেমন কোরবানির পশু কেনার সুযোগ হয়েছে, তেমনই অর্ডার করে দিলে বাড়িতে গরু না এনেই দেওয়া যাবে কোরবানি। পশু কিনে বাড়িতে এনে দুয়েকদিন রেখে ঈদের দিন জবাই করে চামড়া ছাড়িয়ে মাংস পাওয়ার জন্য আর চিন্তা করতে হবে না।
আধুনিক বিশ্বের মতো ‘রেডিমেড’ প্রক্রিয়ার এ কোরবানির ব্যবস্থার ফলে একদিকে যেমন হাটে গিয়ে গরু কিনতে হবে না, তেমনই কসাইয়ের কাছেও যেতে হবে না ক্রেতাদের। শুধু অনলাইনে বুকিং দিয়ে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করলেই তার নামে পশু কোরবানি করে নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানির মাংস পৌঁছে যাবে বুকিংদাতার বাড়িতে।
দেশে প্রথমবারের মতো এরকম ব্যবস্থা করেছে মাংস সরবরাহকারী প্রতিষ্টান বেঙ্গল মিট।
কর্মকর্তারা বলেন, বেঙ্গল মিটের ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্রেতারা পছন্দমতো গরু কেনার জন্য বুকিং দিতে পারবেন। বুকিং দেওয়া গরু ঈদের দিন কোরবানি করে ঈদের তৃতীয় দিন পৌঁছে দেওয়া হবে ক্রেতার বাড়িতে।
কেনো তিন দিন সময়? জানতে চাইলে বেঙ্গল মিটের কর্পোরেট সেলস বিভাগের সহকারি ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ হাসান হাবিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বেঙ্গল মিট যে উপায়ে ভোক্তাদের কাছে মাংস পৌঁছে দেয় কোরবানির সময়ও আমরা সেই মান বজায় রাখতে চাই।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মাংস ২৪ ঘন্টা গরম থাকে। এসময় যদি মাংস প্যাকেটজাত করা হয় তাহলে তার মান ঠিক থাকে না। ‘তাই আমরা শুন্য থেকে চার ডিগ্রি তাপমাত্রায় একদিন সংরক্ষণ করে প্যাকেটজাত করবো। এরপর ঈদের তৃতীয় দিন পৌঁছে দেওয়া হবে ক্রেতার বাড়িতে।
বেঙ্গল মিটের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, প্রতিটি গরুর বয়স, ওজন এবং দাম দেওয়া আছে। ক্রেতারা পছন্দমতো দেখে গরু কিনতে পারবেন। গরুগুলো সুস্থ্ কি না তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকে দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বেঙ্গল মিট।
সৈয়দ হাসান হাবিব বলেন, যেহেতু এটা কোরবানির বিষয় তাই ধর্মীয় সব অনুষঙ্গ নিশ্চিত করা হবে। আমরা এক মাস আগে যে গরুটি কিনেছি তার চেয়ে এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না। আমরা দেখতে চাই বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে কতোটা গ্রহণযোগ্য হয়।
তবে প্রতিটি গরুর জন্য সার্ভিস চার্জ ১৭ হাজার টাকা। সার্ভিস চার্জ এতো বেশি কেনো জানতে চাইলে সৈয়দ হাসান হাবিব বলেন, আমরা সার্ভিস চার্জ বেশি রাখছি না। যেহেতু গরু ঈদের একমাস আগে কেনা তাই গরুর খাবারের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। আর জবাই, কসাইয়ের খরচ, প্যাকেটজাত করা এসবই সার্ভিস চার্জের অন্তর্ভূক্ত।
৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অনলাইন অর্ডার নেওয়া হবে ঈদের পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত। ঢাকা শহরে চারটি আউটলেটে সরাসরি অর্ডার দেওয়া যাচ্ছে। ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১২ জিলহজ্ব মাংস ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। একটি গরুর সব অংশ ভাগ করে কার্টনে করে পাঠানো হবে। প্রতিটি প্যাকেট হবে ১৫ কেজির। কোরবানির গরুর চামড়ার গড় দাম রাখা হয়েছে ১,৭০০ টাকা।
যদি বুকিং দেওয়ার পর কোনো গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে ক্রেতাকে জানিয়ে সেই গরু বদল করে দেবে বেঙ্গল মিট।







