দল কমে ৮-এ দাঁড়িয়েছে। এখন লড়াই কোয়ার্টার ফাইনালের। যাতে জিতলে শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে সমীকরণের সামনে থাকবে কেবল দুটি ম্যাচ। গুরুত্বপূর্ণ এ মহারণ মঞ্চে প্রথম ম্যাচেই নামছে উরুগুয়ে-ফ্রান্স।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় নিঝনিতে মুখোমুখি হবে কাভানি-সুয়ারেজের উরুগুয়ে ও এমবাপে-গ্রিজম্যানের ফ্রান্স।
একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধই। কোয়ার্টারের লড়াইয়ের আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যান, ইতিহাস আর সবশেষ অবস্থা।
>বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও উরুগুয়ে মুখোমুখি হয়েছে ৩বার। যাতে উরুগুয়ের এক জয়ের পিঠে বাকি দুটি ড্র। প্রথম দেখা ১৯৬৬ সালে, গ্রুপপর্বের ওই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল লাতিন জায়ান্টরা। পরের দুই দেখায় গোলশূন্য ড্র।
>বিশ্বকাপের বাইরে এ দুদল শেষবার মুখোমুখি হয়েছে ২০১৪ সালে। প্রীতি ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক উরুগুয়ে।
>রাশিয়া বিশ্বকাপের একমাত্র কোয়ার্টার যেখানে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হচ্ছে। উরুগুয়ে ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে। ফ্রান্স ১৯৯৮ সালে।
>ফ্রান্স বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামছে সপ্তমবারের মতো। আগের ৬ ম্যাচে ৪বারই জিতেছে দলটি, বাকি দুটি হার।
>উরুগুয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নামছে পঞ্চমবারের মতো। আগের ৩বারই সেমিফাইনালে পৌঁছেছে, একবার হার।
>এবার পেনাল্টি আর নিজেদের জালে বল জড়ানোর রেকর্ড হয়েছে। নক আউটে পেনাল্টি শুট আউটের অভিজ্ঞতাও মিলছে। বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারের পরীক্ষা দিয়েছে ফ্রান্স। দুটি জয়ের পিঠে দুটি পরাজয়। ২০০৬ সালে ফাইনালে শেষবার ইতালির বিপক্ষে টাইব্রেক বাধা টপকাতে পারেনি ফরাসিরা।
>উরুগুয়ে সেখানে বিশ্বকাপে টাইব্রেকারের পরীক্ষা দিয়েছে কেবল একবার। সেটি ২০১০ সালে সাউথ আফ্রিকা বিশ্বযজ্ঞে। কোয়ার্টারে ঘানাকে পেনাল্টি শুটে হারিয়েই সেমিতে যায় লাতিন জায়ান্টরা।
>রাশিয়ায় নিজ নিজ গ্রুপের সেরা হয়ে প্রথমপর্বের বাধা টপকায় ফ্রান্স-উরুগুয়ে। সুয়ারেজের দল তিন ম্যাচেই জিতেছে। আর এমবাপের দল দুই জয়ের পিঠে এক ড্র দেখেছে।
>নক আউটে সেরা ষোলোতে মেসির আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টারের টিকিট কেটেছে ফ্রান্স। সেখানে রোনালদোর পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেরা আটে আসে উরুগুয়ে।
>কোয়ার্টারে হলুদ কার্ড জেরে মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইডিকে পাচ্ছে না ফ্রান্স। একবার করে কার্ড দেখেছেন জিরুদ, পাভার্ড, পগবা ও টোলিস্সর।
>উরুগুয়ে সেখানে এখন পর্যন্ত কার্ডই দেখেছে কেবল একবার। একমাত্র হলুদ কার্ড এসেছে রদ্রিগো বেন্টানকুরের মাধ্যমে।
>টানা ৭ জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে কোয়ার্টারে নামছে উরুগুয়ে। এই সাত ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৩বার বল জড়ানোর পিঠে নিজেদের জালে ঢুকতে দিয়েছে কেবল একটি। সেটি সেরা ষোলোতে। এবারের গ্রুপপর্বে একমাত্র দল উরুগুয়ে যারা জাল অক্ষত রেখেছে। সুয়ারেজদের শেষ হারটি গত নভেম্বরে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে।
>ফ্রান্স সেখানে শেষ ১০ ম্যাচের ৮টিতে জিতেছে, হার নেই, বাকি দুটি ড্র। শেষ হারটি কলম্বিয়ার বিপক্ষে।
>নিঝনি নভগোরোদে লড়বে ফ্রান্স-উরুগুয়ে। এই ভেন্যুতে গত ৫ ম্যাচে গোল হয়েছে ১৭টি। সেরা ষোলোর লড়াইয়ে নেমে ক্রোয়েশিয়া ও ডেনমার্ক পেনাল্টি শুট আউটে ভাগ্য গড়েছে।
>ফ্রান্সের হয়ে নজর থাকবে কাইলিয়ান এমবাপে দিকে। রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩ গোল হয়ে গেছে ১৯ বছর বয়সী এ তারকার। গ্রিজম্যানেও থাকবে চোখ।
>উরুগুয়ের হয়ে আলো থাকবে এডিনসন কাভানির দিকে। দলটির শেষ ৩ গোলই এসেছে এমবাপের ক্লাব সতীর্থের থেকে। তবে চোটে কোয়ার্টারে মাঠে নামা নিয়েই শঙ্কায় আছেন কাভানি। চোখ থাকবে সুয়ারেজের দিকেও।








