যে কোনো জিনিসের উন্নয়ন বা সমৃদ্ধি নির্ভর করে বিনিয়োগের ওপর। না হলে অধিক আন্তরিকতা থাকলে মাধ্যমটি ঠিকঠাক মাথা তুলে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। যার উজ্জ্বল উদাহরণ ঢাকাই চলচ্চিত্র। উপযুক্ত বিনিয়োগের অভাবে বাংলা চলচ্চিত্র এখন হুমকির মুখে। অথচ এক সময় এই মাধ্যমটি ছিলো রমরমা।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলা চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার কালে বহু নিয়মিত প্রযোজকদের হারিয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রি। তারপরেও যারা আছেন তারাও ধুঁকছেন। চলচ্চিত্রে লগ্নি করতে এখন আর সাহস পান না। আর এসবের জন্যে তারা দায়ি করেন চলচ্চিত্রের মাদার সংগঠন ‘চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি’র কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়াকে।
তবে আশার কথা, সংগঠনটি আবার নতুন করে পথচলতে শুরু করেছে। প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকা চলচ্চিত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ জুলাই। আর এই খবরে স্থবিরতা ঝেরে ফেলে উজ্জীবিত ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রযোজকরা।
বিশেষ করে চলচ্চিত্রের দুঃসময়েও যারা নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই নির্বাচনকে খুব ইতিবাচক ভাবে দেখছেন তারা। সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু নতুন ও পুরনো প্রযোজকরাও। তাদের মধ্যে অন্যতম একজন প্রযোজক ইকবাল হোসেন জয়। গেল ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত তার প্রযোজিত ছবি ‘পাসওয়ার্ড’, সিনেমা সংশ্লিষ্ট সকলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে তিনিও প্রার্থী হয়েছেন। জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী এই প্রযোজক।
সিনেমার মন্দা সময়েও নিয়মিত সিনেমা বানিয়ে গেছেন, এমনটা জানিয়ে এই নির্মাতা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, আমি রেগুলার ছবি বানাচ্ছি। ইন্ডাস্ট্রি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। এসবের মধ্যেও লগ্নি করে যাচ্ছি। এই খারাপ সময়ে যিনি নিয়মিত ছবি বানাচ্ছেন, একমাত্র তিনি বোঝেন কতোটা রিস্ক নিয়ে টাকা ঢালতে হয়। তারপরেও চলচ্চিত্রেকে ভালোবাসি বলে দুঃসময়েও বড় বাজেটের ছবি নির্মাণ করছি। প্রপার ছবি বানাচ্ছি বলে দর্শক গ্রহণ করছে। এসব ছবি চালিয়ে সিনেমা হলগুলো কিছুটা হলেও টিকে আছে। শুধু আমি নই, নিয়মিত আরও প্রযোজককে লগ্নি করতে হবে।
ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া শাকিব খান প্রযোজিত ও অভিনীত সুপারহিট ছবি ‘পাসওয়ার্ড’-এর একাংশের প্রযোজক ইকবাল। এর আগেও প্রযোজক ইকবাল একাধিক ব্যবসা সফল ছবি প্রযোজনা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ‘শুটার’, ‘সাহেব নামে গোলাম’, ‘জিরো থেকে টপ হিরো’, ‘মনের ঘরে বসত করে’, মনে প্রাণে আছো তুমি, ‘এক মন এক প্রাণ’ ইত্যাদি।
নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইকবাল বেশ আশাবাদী। বললেন, নিয়মিত ছবি যেহেতু বানাই, তাই ভালোভাবে জানি সমস্যাগুলো কী কী। এসব সমস্যা দূর করতে পারলে নতুন প্রযোজকরা আবার বিনিয়োগে করতে উৎসাহিত হবে। পেশাদার প্রযোজকরা আবার ছবি নির্মাণ করবেন। তখন ফিল্ম ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রযোজকদের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব দরকার জানিয়ে ইকবাল বলেন, প্রযোজকের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। ছবি বানাতে এসে প্রযোজকরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। এমনকি আদালত পর্যন্ত দৌড়াতে হয়। প্রযোজকরা সৌখিন মানুষ। তারা কোটি টাকা লগ্নি করবে আবার আদালতে যাবে তা হবে কেন? প্রযোজকদের যাতে কোনো লোকসান না হয় সে দিক খেয়াল রেখে কাজ করবো। ইন্ডাস্ট্রি এখন খুব খারাপ সময় পার করছে। এতদিন প্রযোজকদের মধ্যে একতা ও নেতৃত্ব ছিল না বিধায় যে যা খুশি করেছে। এসব সমস্যা দূর করতে যোগ্য নেতৃত্ব দরকার।
তিনি বলেন, প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে জয় পেলে চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা করা দরকার হবে তাই তাই করবো। প্রযোজক যেন লগ্নিকৃত আসল টাকা ফিরে পান সেটা আগে দেখা হবে। সিনেমা হল ও প্রযোজকের মাঝ থেকে মধ্যভোগী কেউ সুবিধা নিতে চাইলে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ই-টিকেটিং, সিনেমা হলে মেশিন ভাড়া, সেন্ট্রাল সার্ভার বসাতে সরকারের সাহায্য কামনাসহ সমস্যা দূর করে চলচ্চিত্রের আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে কাজ করবো।
২৭ জুলাই প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে কোনো প্যানেল থাকছে না। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে। ১৪০ জন ভোটারের মধ্যে প্রথমে সাধারণ সদস্যরা ১৯ জন নির্বাহী সদস্যকে নির্বাচিত করবেন। এরপর নির্বাচিত ১৯ জন মিলে সম্পাদকীয় পদের জন্য ১০ জনকে নির্বাচিত করবেন।
এদিকে সম্প্রতি এফডিসি ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রের এই আঁতুরঘরে আবার প্রযোজকদের আনাগোনা বাড়ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে এই নির্বাচন। আর নির্বাচনের ফলে বাংলা চলচ্চিত্রে বইতে পারে সুবাতাস।








