দেশের পোশাক শিল্পের আমদানি রপ্তানির ৯০ শতাংশই হয় চট্টগ্রাম দিয়ে। অথচ গত ৪০ বছরে দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে চট্টগ্রামের অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে। দেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে ২০ বছর আগেও চট্টগ্রামের অবদান ছিলো প্রায় ৪০ শতাংশ। অথচ এখন তার পরিমাণ মাত্র ১১ শতাংশ। চট্টগ্রামে তিনদিনের অ্যাপারেল ও সেফটি এক্সপোতেও তার লক্ষণ স্পষ্ট। প্রদর্শনীতে স্টল দেয়া বেশিরভাগ কোম্পানি চীন ও থাইল্যান্ডের এক্সেসরিজ কোম্পানি। দেশীয় উদ্যোক্তা হাতে গোনা।
চট্টগ্রামের উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ফ্যাক্টরি চালাতে হয় ডিজেলে। এ খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ গার্মেন্টস পল্লী প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে যেসব খালি জায়গা পড়ে আছে সেগুলোকে গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহারের জন্য সহজলভ্য করে দিলে পোশাক শিল্পের অনেক উন্নতি হবে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা নজরুল ইসলাম।
চট্টগ্রামে কোন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সরাসরি আসতে পারেন না। তাদের আগে যেতে হয় ঢাকায়। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে আগামীতে চট্টগ্রামে পোশাক কারখানা আবারো বাড়বে বলে মনে করেন বিজিএমই’র পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
চট্টগ্রামের ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য মড়ার ওপর খাড়ার ঘায়ের মতো এসেছে জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন। সেমিনারেও উঠে আসে এ বিষয়। সমস্যা সমাধানের জন্য বিজিএমই এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন বলে মনে করেন সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা। এক্ষেত্রে কম খরচে ঋণব্যবস্থায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি আয় করতে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেশি বিদেশী বিশেষজ্ঞদের।







