চট্টগ্রামের পটিয়ার চরকানাই, হুলাইন, পাচুরিয়া এবং হাবিলাস দ্বীপ গ্রামে অব্যাহতভাবে সুপেয় পানি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এসংক্রান্ত এক রিটে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয় বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
সেই সাথে পটিয়ার এই চারটি গ্রামকে আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘পানি সঙ্কটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দূষণের মাত্রা যাচাই করে ওই এলাকার ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়েরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে।
ওই ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান হলো, বনফুল এন্ড কোম্পানি, বনফুল মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি, আম্বিয়া নিটিং ডাইং লিমিটেড, আম্বিয়া পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড, মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড, হাক্কানী পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেডি, আনোয়ারা পেপার মিলস লিমিটেড ও শাহ্ আমানত নিটিং এন্ড ডাইং লিমিটেড।
এছাড়া হাইকোর্ট তার রায়ে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও কার্যকরী বর্জ্য শোধনাগার প্ল্যান্ট ছাড়া পটিয়ার ওই এলাকায় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন না চলে তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী,আলী মুস্তফা খান এবং সাঈদ আহমেদ কবীর। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চ্যালেন আই অনলাইনকে বলেন: ৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে পটিয়ার হাবিলাস দ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই, হুলাইন, পাচুরিয়া এবং হাবিলাস দ্বীপ গ্রামে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এর ফলে ওই এলাকার ৩৫০টি টিউবওয়েল পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেলে চারটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কটে পড়ে।
এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির পক্ষ থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর পানি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। এরপর আদালত কয়েকটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনাসহ রুল জারি করেন। সে রুলের অংশবিশেষ যথাযথ ঘোষণা করে আজ রায় দেন হাইকোর্ট। তবে রিট মামলাটি চলমান রেখে রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ভবিষ্যতে এই চারটি গ্রামে পানির বিকল্প ব্যবস্থা না করে ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করে ‘লাল’ বা ‘কমলা’ শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।”








