দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। সংগীতের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডেও যাকে নিয়মিত জড়িত থাকতে দেখা যায়। এবার তার সম্পৃক্ততায় ময়মনসিংহে যাত্রা শুরু করলো ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’। যে ক্লাবটি সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান ‘বাহির বলে দূরে থাকুক’ খ্যাত এই শিল্পী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর। উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগীত শিল্পী ন্যানসি। অনুষ্ঠানে নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক ও নাটকেরও মঞ্চায়ন হয়।
বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কাজে অংশ নিয়ে খবরে এসেছেন কণ্ঠশিল্পী ন্যানসি। প্রতি বছর নিজ এলাকা নেত্রকোনায় শীতার্ত ও বন্যার্তদের মাঝে ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণও করেন এই শিল্পী। কিন্তু ঘটা করে এমন ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর প্রতিষ্ঠা কেন?
চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্নে কণ্ঠশিল্পী জানান, ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর উদ্যোক্তা কিন্তু আমি নই। ময়মনসিংহের বেশকিছু তরুণ আমার কাছে ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর প্রস্তাব নিয়ে আসে। তারা আমাকে জানায়, আমি যে সামাজিক কাজ কর্মগুলো নিয়মিত করি এগুলোর সাথে তারা নিজেরাও অন্তর্ভূক্ত হতে চায়। ভলেন্টিয়ার হিসেবে তারা আমার কাজে যুক্ত থাকতে চায়। তাদের প্রস্তাব ভালো লাগায় ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করি আমি।
‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো আরো সহজ হলো জানিয়ে ন্যানসি বলেন, সবাই হয়তো জানেন আমি প্রতি বছর শীতে কিংবা বন্যার সিজনে আমার সামর্থ অনুযায়ি মানুষের পাশে দাঁড়াই। এগুলোতো মানুষের সিজনাল ক্রাইসিস। কিন্তু এগুলোর বাইরেও দেখি মানুষের প্রচুর সংকট। সারা বছরই কোনো না কোনো মানুষ নানা সংকটে ভুগছে। আমার সামর্থ অনুযায়ি আমি অন্তত আমার এলাকার মানুষের পাশে হলেও দাঁড়াতে চাই। আমার মনে হয় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাস্তাটা ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’ আরো সহজ করে দিলো।
অসহায় মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’ এমনটা জানিয়ে ন্যানসি আরো বলেন, সরকার নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিচ্ছেন, বয়স্ক ভাতাও দিচ্ছেন। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সবার পাশে দাঁড়ানো সম্ভব না। আমাদের এলাকাতেই অনেক বয়স্ক মানুষ আছেন যাদের ছেলে-মেয়েরা এখন তাদের দেখছে না। তাদের খোঁজ খবর রাখছে না। আমরা ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর পক্ষে ছোট পরিসরে হলেও সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, আমাদের সামর্থ অনুযায়ি তাদের সহায়তা করতে চাই।
অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে এই শিল্পী আরো বলেন, সংসারে যাদের দেখার কেউ নেই এরকম অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করছে ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’। এরপর তাদেরকে প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট দেয়ার চেষ্টা থাকবে আমাদের। প্রথম ধাপেই হয়তো আমরা বহু মানুষকে ভাতা দেয়া শুরু করতে পারবো না, কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের সামর্থ অনুযায়ি সংখ্যাটা আমরা বাড়াবো।
ফান্ডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ন্যানসি বলেন, আমি কারো থেকে অর্থ নিচ্ছি না। ব্যক্তিগত ভাবে যতটুকু পারবো ঠিক ততোটুকু দিয়েই মানুষের পাশে থাকতে চাই। আর এসব কাজেতো দৌড়াদৌড়িতে সব সময় আমি নিজে থাকতে পারবো না, তাই কিছু উদ্যোগী ও উদ্যোমী ছেলেদের নিয়ে ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’ শুরু করেছি। মানে ভলেন্টিয়ার হিসেবে তারা কাজ করবে।
ক্লাবটির জন্য অফিস হিসেবে আপাতত নিজের বাসার ৪০০ স্কয়ার ফিটের বেজমেন্ট বরাদ্দ করে দিয়েছেন ন্যানসি। ক্লাবটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন নাজিমুজ্জামান জায়েদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদের দায়িত্ব পালন করছেন যথাক্রমে কামরুজ্জামান রিজন ও মো. আব্দুর রহমান। ক্লাবে শিগগির পাঠাগারও অন্তর্ভূক্ত করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন তিনি। সুস্থ মনন গড়ার পাশাপাশি মানুষের সহায়তায় পাশে দাঁড়াতে তারুণ্যকে তৈরি করতেই ‘হ্যাপি বন্ডিং ক্লাব’-এর যাত্রা বলে মনে করেন ন্যানসি।
নতুন ক্লাবের প্রতিষ্ঠা ছাড়াও জনপ্রিয় এই শিল্পী সংগীতে তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন। জানান, ‘অন্ধকার জগত’ নামের একটি সিনেমায় ক’দিন আগে একটা গান করেছেন। এছাড়া সাউন্ডটেক থেকে আগামিতে তিনটি সলো গানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শফিক তুহিনের কথা ও সুরে তিনটি গানে আগামি অক্টোবরে কণ্ঠ দিবেন বলেও জানান ন্যানসি।







