নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে এর ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। ব্রিফিংয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন নিরাপত্তার আড়ালে রাতের অন্ধকারে কী ঘটেছে তা রহস্যময়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কিছু অভিযোগ তুলেছিলেন বিএনপি মনোনীত পরাজিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে দলের অবস্থান পরিস্কার করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী।
সেখানে তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও আশেপাশের জেলার নেতৃবৃন্দ ইতোপূর্বে নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সময়ের দেড় দিন আগে থেকেই এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি, যা নজীরবিহীন। সার্বিকভাবেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে পরিমাণে ভোট পড়ার কথা তার থেকে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো অনেক কম। কোনো কোনো কেন্দ্রে সারাদিন ভোটারদের উপস্থিতি নগণ্য দেখা গেলেও পরে দেখা গেছে সেখানে শতকরা ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। আর কোনো কোনো কেন্দ্রে লম্বা লাইন ধরে ভোট দিতে গেলে দেখা গেছে তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
সেনা মোতায়েন না করায় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিলো না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজীরবিহীন নিরাপত্তার আড়ালে রাতের অন্ধকারে কি ভূমিকা রেখেছে তা নিয়েও জনমনে সংশয় রয়েছে। কারণ কারফিউয়ের মতো পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই জনগণের নজরদারীতে থাকা সম্ভব নয়। ভোট ইন্সট্রুমেন্ট যেমন, ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও সিল তাদের হেফাজতেই থাকে ফলে ভোট জালিয়াতির যথেষ্ট সম্ভাবনাও থাকে। সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন হলে ক্ষমতাশালী কেউই অনিয়ম করার সাহস পেতনা। আর এসব করা হয়নি বলেই নির্বাচনী ফিল্ড লেভেল হয়নি। তাই গতকালের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ, গণনা ও ফলাফল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, উৎসবমুখর নির্বাচনের কথা বলা হলেও ওইদিনই বিএনপির শীর্ষ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিলো।







