বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শুরুর পর থেকেই কোলাহল মুক্ত হয়ে পড়েছে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম। নারী ক্রিকেট দল ভারত সফরে, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শেষ ক্যাম্প হবে ১ ডিসেম্বর থেকে। ব্যাট-বলের ঠুকঠাক আর ব্যস্ত পদচারণা তাই নেই বললেই চলে। হোম অব ক্রিকেটের এই নীরবতাই আবার অনুশীলনের সুযোগ করে দিয়েছে কয়েকজন ক্রিকেটারকে। কয়েকদিন ধরেই একাডেমি মাঠে এসে অনুশীলন করছেন এনামুল হক জুনিয়র, শামসুর রহমান শুভ, আলাউদ্দিন বাবু। মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাঈম ইসলাম।
ঘরের ক্রিকেটের ওয়ানডে ও লংগার ভার্সনে দারুণ পারফরম্যান্স করে যাওয়া এনামুল ও নাঈম বিপিএলে দল পাননি। সেটা নিয়ে আক্ষেপ আছে। তবে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মিল খুঁজতে গিয়ে নিজের কাছে পিছিয়ে পড়তে চান না নাঈম, ‘বিপিএলে খেলতে পারলে ভাল হত। সুযোগ আসলে তা কাজে লাগানো যেত। কিন্তু এখন কি পাইনি আর কী পেলাম তা ভেবে লাভ নেই। যেভাবে খেলছি সেভাবেই খেলে যেতে চাই। এগুলো নিয়ে ভাবলে আরো ভেঙে পড়ব। এনসিএলের এক রাউন্ড বাকি, সেখানে কীভাবে ভাল খেলা যায় তার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
গত তিন বছরে চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে নতুন ক্রিকেটারদের উপর বেশি ফোকাস করেছেন। বাংলাদেশের কোচের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে শ্রীলঙ্কার কোচ হওয়ার পথে হাথুরু। নতুন কোচ এলে উপেক্ষিতদের ভাগ্য খুলতে পারে কিনা এমন আলোচনাও চলছে! নাঈম অবশ্য অতশত ভাবছেন না, ‘নতুন কোচে এলে ভাল হতে পারে খারাপও হতে পারে। কিন্তু মানুষ কী করবে এটার জন্য যদি আমি অপেক্ষা করি, অন্তত আমার জন্য সেটি ভাল হবে না। আমি কী করতে পারি সেটাই যদি আমি করে চলি, সেটা আমার জন্য ভালই হবে।’
ভাল অবশ্য করেই যাচ্ছেন নাঈম। যেখানেই খেলছেন ব্যাটে রানের ফল্গুধারা। জাতীয় লিগের সবশেষ রাউন্ডেই হাঁকিয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি (২১৬)। জাতীয় দলের ক্যাম্পে যদিও ডাক পড়ছে না বছর তিনেক। শুধু নাঈমই নন, তুষার ইমরান, অলক কাপালির মত অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় লিগে ভাল খেলেও ব্রাত্য। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্মা করেও জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার প্রভাব নিয়েও বললেন নাঈম।
‘যখন ভাল কাজ করবেন, অবশ্যই চাইবেন পুরস্কার হিসেবে কিছু পেতে। না পেলে অনুপ্রেরণা ধরে রাখা খুবই কঠিন হয়ে যায়। তারপরও বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। বাস্তবতার মুখোমুখি হতেই হবে। ‘এ’ দলের খেলা অনেক কম, জাতীয় দলের পর যে দ্বিতীয় দল হিসেবে যার অস্তিত্ব থাকার কথা। কিন্তু এইচপি দলই এখন ‘এ’ দল হয়ে যায়। সেখানে খেলোয়াড়দের একটা গ্যাপ থাকে সবসময়।’
বয়সভিত্তিক দল থেকে বের হওয়ার পর অন্য দেশের ক্রিকেটাররা জাতীয় দলে আসার আগ পর্যন্ত যে কাঠামোয় মধ্যে থাকে সেটি আমাদের দেশে কম বলেই মত নাঈমের।
‘যদি ‘এ’ দলের নিয়মিত খেলা থাকত বা আরেকটা কিছু থাকত, আমাদের উন্নতির অনেক সুযোগ থাকত। বাইরের দেশে অনূর্ধ্ব-১৯ দল যখন হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দলের তেমন পার্থক্য থাকে না। কিন্তু বিদেশি যুব ক্রিকেটারটি যখন জাতীয় দলের হয়ে খেলে, আর বাংলাদেশের যুব খেলোয়াড়টি যখন জাতীয় দলে আসে, দুজনের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি হয়ে যায়। এই পার্থক্য তৈরি হয় ওদের আর আমাদের কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে। যদি আমাদের ‘এ’ দলের খেলা হত, এইচপির প্রোগ্রাম আরও বেশি হত, ওই গ্যাপটা কমে আসত।’
বিপিএল শেষেই জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ড। বিসিবির কোচদের অনেকেই বিপিএলের বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত। সময়টাতে শুভ, নাঈমদের ফিটনেস ও ফিল্ডিং নিয়ে কাজ করছেন হুমায়ুন কবীর শাহিন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা এই লেগস্পিনার কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। বিসিবির লেভেল কোর্স না করলেও সতীর্থদের সহায়তা করার মধ্য দিয়ে কোচিংয়ে হাতেখড়ি হয়ে যাচ্ছে শাহীনের। এনাম, নাঈমদের চেয়ে বয়সে ছোট হলেও বাবা-মায়ের অসুস্থতার কারণে ছেড়ে দিয়েছেন খেলা। বয়সভিত্তিক দলে সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সঙ্গে খেলেছেন শাহীন। তার ডাকে সারা দিয়ে ক্রিকেটাররাও দারুণ উৎসাহ নিয়ে নিজেদের শানিত করছেন জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডের জন্য।








