নাইজেরিয়ার লাগোস বিমানবন্দরে শতাধিক বস্তা ‘প্লাস্টিক চাল’ আটকের ঘটনায় দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায়ী করেছেন খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাকে। সংস্থাটি অবশ্য মন্ত্রীর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আইজ্যাক আডেয়োল এক টুইটবার্তায় বলেন, জাতীয় খাদ্য ও ওষুধ সংস্থা (নাফডাক) চালগুলো পরীক্ষা করে এর আগে সেগুলোতে কোনো ধরণের প্লাস্টিক উপাদান থাকার ‘প্রমাণ নেই’ বলে জানিয়েছিল। অথচ সেই বস্তাগুলোতেই জব্দ হলো প্লাস্টিকের চাল।
এর জবাবে নাফডাকের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর টুইটে যা বলা হয়েছে সেটি তাদের অবস্থান নয়। বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমাদের চালগুলোর রাসায়নিক ও জৈবিক পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। আমরা এ নিয়ে এখনো পরীক্ষাগারেই রয়েছি। এখনো আমরা এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি এবং এটা দু’দিনে সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো কোনো জিনিসও নয়।”
নাইজেরিয়ানদের শান্ত থাকতে আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সংস্থাটি “তদন্ত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাপ্ত তথ্যের বিস্তারিত জনগণের কাছে প্রকাশ করবে”।
বুধবার নাইজেরিয়ার লাগোস বিমানবন্দর থেকে প্রায় আড়াই টন পরিমাণের ১০২টি বস্তা ভরা
‘প্লাস্টিক’ চাল আটক করা হয়।
চাল নাইজেরিয়ার প্রধান খাদ্য। ক্রিসমাস বা বড়দিন উপলক্ষ্যে উপহার হিসেবে চালের বস্তা দেয়া দেশটির বহু বছরের ঐতিহ্য। লাগোস কাস্টমস বা শুল্ক বিভাগের প্রধান হারুনা মামুদু বিবিসিকে জানান, সেই ঐতিহ্যের সুযোগ নিয়েই ব্যবসা বাড়াতে নকল চালগুলো আমদানি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামুদু জানান, চালগুলো দেখতে ঠিক আসল চালের মতোই। কিন্তু এতে হালকা রাসায়নিক দুর্গন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সেদ্ধ করার পর চালগুলো খুবই আঠা আঠা হয়ে যায়।
চালগুলো কোথা থেকে এসেছে এ ব্যাপারে নিশ্চিত না কর্তৃপক্ষ। তবে গত বছর চীনে একই ধরণের প্লাস্টিক চাল বাজারে এসেছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে, চালগুলো চীন থেকেও আনা হয়ে থাকতে পারে।








