ধর্মশালা, হিমাচল প্রদেশ (ভারত): গ্যালারির আবেগ কি গ্যালারিতে না বসে থেকে দেখা-জানা-অনুভব করা যায়? এর এক শব্দের জবাব, ‘না’। আজ বুধবার ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের খেলা দেখতে গিয়ে তেমন এক আবেগের অশ্রু বিসর্জন দেখে চুপ থাকতে পারিনি।
হঠাৎ দেখি গ্যালারির এক কর্নারে বসে চোখ মুছছেন এক যুবক! বাংলাদেশের তামিম যখন চার-ছক্কার তুবড়ি ফুটাচ্ছিলেন তখন আনন্দে লাফিয়ে ওঠে যুবক চোখ মোছেন! আবার যখন বাংলাদেশের একের পর এক উইকেটের পতন ঘটছে তখনো তাকে চোখ মুছতে দেখি!
এগিয়ে গিয়ে যুবকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবিষ্কার করি, এতো আমার ‘নমস্কার বাংলাদেশ’এর গল্প!
নানা কারনে দেশ ছেড়ে যায় অথবা যেতে বাধ্য হয় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন! কিন্তু ভারতে গিয়েও তারা মানসিক ভালো থাকেন না। সারা সময় মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। কিন্তু দেশে ফিরতেও পারেন না!
তাই মাঝে মাঝে সীমান্তে এসে জন্মভূমি বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে চোখ মুছতে মুছতে জন্মভূমিকে নমস্কার দিয়ে চলে যান! এই যুবকও যেন জন্মভূমিকে নমস্কার করতে ধর্মশালা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখতে এসেছেন! বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম তথা টাইগার বাহিনীই যেন তার কাছে জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতিবিম্ব!
এই যুবকের নাম বিক্রম। জন্মেছিলেন বরিশালের উজিরপুরের গ্রামে। তার তিন বছর বয়সে তার পরিবারটি বাংলাদেশ ছেড়ে গিয়ে কলকাতাবাসী হয়। নাড়িচ্যুত হিন্দুরা অবশ্য কলকাতা তথা স্থানীয়দের চোখে-ডাকে ‘বাঙ্গাল’!
এই বিক্রম সেই কলকাতাইয়াদের চোখে-ডাকের অথবা অবজ্ঞার বাঙ্গালদের একজন! অনলাইনে পড়াশুনা করেন। ধর্মশালায় বেড়াতে এসে বাংলাদেশের ম্যাচ হবে শুনে আর মিস করেননি। চারশ কুড়ি টাকায় টিকেট কেটে ছুটে এসেছেন মাঠে!
বিক্রম বললেন, আমরা তিন ভাই। আমি সবার ছোট। আমাদের পরিবারটির দেহখানা ভারতে থাকলেও মনখানা সব সময় বাংলাদেশে।
যেমন আজ এখানে আসার আগেও মাকে ফোনে বলেছি, বাংলাদেশের খেলা দেখতে যাচ্ছি। আহলাদিত মা বলে দিয়েছেন, দেখিসতো বরিশালের কাউকে পাস কিনা। এ কথা বলতে বলতে আবার চোখ মুছেন বিক্রম।
তার ছবি তুলতে গেলে আমার হাতের বাংলাদেশের পতাকাটি নিয়ে বুকের কাছে মেলে ধরেন যুবক।
এখন তিনি ভারতীয় হলেও এ নিয়ে একটুও দ্বিধা-সংকোচ দেখিনা তার মধ্যে! জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা নিয়ে যে কোন দ্বিধা-সংকোচ চলেনা।
বিক্রমের জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশও এখানে ঘটিয়েছে ক্রিকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেট রাষ্ট্রদূত বাহিনী!







