অল্প সময়ে যাতে শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য শ্রম আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মজিবুল হক চুন্নু।
শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কারখানায় আহত হলে শ্রমিকরা ৫০ হাজার কিংবা ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পায়। কিন্তু এ ক্ষতিপূরণ পেতে তাদের কয়েক বছর সময় লেগে যায়। দিনের পর দিন আদালতে ঘুরতে হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ে যাতে শ্রমিকেরা ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য দরকার হলে শ্রম আইন সংশোধন করা হবে।
কারখানা পরিদর্শকের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ৩২২ জন ইন্সপেক্টর আছেন। আরও ১৬০ ইন্সপেক্টর পদ খালি আছে। এই ৪৭৫ জন পরিদর্শক দিয়ে সারা বাংলাদেশে সব কারখানা পরিদর্শন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কমপক্ষে এক লাখ পরিদর্শক দরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্স এর কার্যক্রম নেই, শুধু বাংলাদেশে আছে। আমাদের কারখানা পরিদর্শনের জন্য জনবল তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। কারখানার মান উন্নয়নে আমরা যথেষ্ট দক্ষতা বৃদ্ধি করেছি।
ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে তোফায়েল বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশে শ্রমিক, কারখানা নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলা হয়। চীন, ভারত ও ভিয়েতনামসহ যেসব দেশ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি করে তাদের দেশে এসব বলা হয় না।
অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান বেশি উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, তাজরিন ও রানা প্লাজা দূর্ঘটনার পর কারখানা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রানা প্লাজা ধসের পর ১৫ জুলাই শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে।
আগে শ্রমিকরা বেতন পেত ১ হাজার ৬০০ টাকা। সেটা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়। তারপর আরো বাড়িয়ে করা হয় ন্যূনতম ৫৩০০ টাকা। এছাড়াও প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ উন্নত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরাতন কারখানার বদলে নতুন আধুনিক সবুজ কারখানা তৈরি করা হযেছে। শ্রমিকরা এখন নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। তবে এজন্য উদ্যোক্তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও পণ্যের দাম বাড়ায়নি ক্রেতারা। উপরন্ত ইউরোর দরপতনের ফলে দাম আরো কমেছে। শ্রমিকদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পোশাকের দাম বাড়ানো প্রয়োজন।
ডলারের দাম বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে রপ্তানিকারক লাভবান ও আমদানিকারক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম না বাড়ে। এ বিষয়ে গর্ভনরের সাথে কথা বলেছি। হঠাৎ ডলারর দাম অনেক বেড়ে গেছে। তবে এখন কিছুটা কমেছে, আরো কমতে পারে।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূইয়া, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রী নিবাস প্রমুখ।








