দেশে নির্বাচনের পরিস্থিতি নেই বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিদেশী কূটনীতিদের কাছে দলের নেতারা বলেছেন, দেশে গণতন্ত্রও নেই। বিএনপির আমন্ত্রণে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে গেলে তাদের কাছে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপি চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বুধবার সকাল থেকেই আসতে শুরু করেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। ভারত, পাকিস্তান, ইইউ, জাপান, নেপাল, ভুটান-শ্রীলংকা, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয় দু’ঘন্টা।
পরে বৈঠক সম্পর্কে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর মঈন খান। তিনি বলেন, এদেশে কোন গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা নেই যেখানে বিরোধীদল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারে। এর উপর শুরু হয়েছে পৌরসভা নির্বাচন। এ নির্বাচনে ইতিমধ্যে ৭ জন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় দেড়শত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এটি সম্ভব হয়েছে, যে জায়গাগুলোতে নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে বিরোধীদলকে নমিনেশনের ফাইল পর্যন্ত পৌছাতে দেওয়া হয় নাই।
এ হচ্ছে বাংলাদেশে একদলীয় গণতন্ত্রের নমুনা।
মঈন খান আরো বলেন, নির্বাচনে যদি আমাদের নেতা কর্মীরা থাকতে না পারে তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিভাবে তৈরি হবে। এর ফলে দাঁড়ালো আমি নির্বাচন দিলাম কিন্ত বিরোধীদলকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে দিলাম না। যৌথ বাহিনী যে কাজ করছে তা আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পক্ষে যাচ্ছে না।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয় দলের এ সিনিয়র নেতার কাছে। তিনি বলেন, আজকে যে স্থানীয় নির্বাচন, এই নির্বাচনে কিন্ত সরকারের পরিবর্তন হবে না। সরকারের এতো ভয় পাবার কি আছে? সরকার একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে। আর এ নির্বাচন সরকারের ক্ষেত্রে পজেটিভ হবে যদি সত্যিকারের মানুষের মন জানতে চায় ‘জনগণ সরকারের পক্ষে আছে না বিপক্ষে’ এটা সরকারের কাছে টেস্ট কেস হতে পারে। এটা আমাদের চেয়ে বেশী মনে করি সরকারের।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে ডাকা হয়েছে। সেখানে আরো বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে।






