লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জন্য যেটি বাঁচা-মরার লড়াই। হারলেই হাতছাড়া সুপার লিগ পর্ব। এমন ম্যাচেই কিনা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ছুঁড়ে দিল ৩৪০ রানের লক্ষ্য। দুই সেঞ্চুরিতে তোলা তাদের এই রান আবার ‘অবিশ্বাস্য’ এক জয়ের গল্প লিখে টপকে গেছে শেখ জামাল। টিকিট কেটেছে সুপার পর্বেরও।
মোহামেডানের করা ৩৩৯ রান এক উইকেট অক্ষত রেখে টপকে যায় ধানমন্ডির ক্লাবটি। লিগ পর্ব শেষে সাদা-কালো শিবিরের পয়েন্ট লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের সমান ১২ করে। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে জেতা শেখ জামাল সুপার পর্বে গেছে রূপগঞ্জকে টপকে। আর হেরেও সুপার লিগে থাকছে আগেই টিকিট কাটা মোহামেডান।
রোববার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে দুর্দান্ত জয়টি তুলে নিতে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়তে হয়েছে শেখ জামালকে। শামসুর রহমান ও রনি তালুকদারের সেঞ্চুরিতে ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে স্বস্তিতেই ছিল মোহামেডান। পরে শুরু থেকেই ঝড়ের বেগে রান তুলতে থাকেন জামালের ব্যাটসম্যানরা।
ফজলে রাব্বি ও প্রশান্ত চোপড়া মিলে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ৫ ওভারেই তুলে নেন দলীয় ফিফটি, ১২ ওভারে শতক। রাব্বি ২০ বলে ২৮ রানে করে ফেরার পর দ্রুত সাজঘরে হাঁটা দেন রাসেল আল মামুন (০)।
এরপরই ম্যাচের মোড় ঘোড়াতে থাকেন সোহাগ গাজী। চারে নামা এই তারকা খেলেন বিস্ফোরক এক ইনিংস। ৬৪ বলে ৮৯ রান আসে গাজীর ব্যাটে। তার আগে প্রশান্ত ৬০ বলে ৮৬ রানের আরেকটি টর্নেডো ইনিংস খেলে রানের গতি বাড়িয়ে দেন।
কিন্তু প্রশান্ত-গাজীর বিদায়ের পর আবারো ম্যাচের মোড়ে উল্টো বাঁক আসে। ছিটকে যেতে থাকে শেখ জামালের লক্ষ্য। তখনই তানবীর হায়দার ও ইলিয়াস সানির প্রতিরোধ। দুজনে সপ্তম উইকেটে ১৩.৩ ওভারে ৮৭ রান যোগ করে পালাবদলের দৃশ্যপট রেখা নিজেদের দিকে টেনে নেন।
তানবীর ৭২ বলে ৭৭ রান করে বিদায় নিলে আবারো জেঁকে বসতে শুরু করেন মোহামেডান বোলাররা। টানা দুই বলে তানবীর ও মাহমুদুলকে বোল্ড করে মোহাম্মদ আজিম ম্যাচ জমিয়ে দেন। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য লিখতে তখন এক প্রান্ত আগলে লড়ে যান ইলিয়াস সানি।
শেখ জামালকে অবিশ্বাস্য জয়টি এনে দেয়ার পথে ৪৫ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন সানি। তবে ম্যাচে জয়সূচক রানটি আসে শাহাদাত হোসেন রাজীবের ব্যাটে। এনামুল হক জুনিয়রের করা ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলটি মিডঅফের উপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করে সুপার লিগ নিশ্চিতের আনন্দে মাতান শেখ জামালের ডাগআউট।
আগে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে গল্প লেখেন মোহামেডানের শামসুর ও রনি। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তাতে তিনশ পেরেনো সংগ্রহ জমা করে মোহামেডান। শামসুর রহমান ইনিংসের আগাগোড়া ব্যাট করে ১৪৪ রানে অপরাজিত থাকেন, রনি তালুকদারের ব্যাটে আসে ১১০ রানের ইনিংস।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই শেখ জামাল বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন দুই উদ্বোধনী শামসুর এবং সৈকত আলী। ৫.৭০ গড়ে দুজনে ৭৬ রান তোলেন। ২৮ বলে ৩৯ করে সৈকত আউট হলে শামসুরের সঙ্গী হন রনি। দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৩ রান এসেছে রনি-শামসুরের ব্যাটে। দুজনেই হাঁকিয়েছেন লিস্ট ‘এ’তে নিজেদের তৃতীয় এবং ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরি।
৯৯ বলে ১০ চার এবং ৩ ছয়ে ১১০ রান করে রনি সাজঘরে ফেরেন। আর শামসুর ইনিংসের আদ্যোপান্ত ব্যাট করে ১৫২ বলে সমান ৭টি করে ছক্কা-চারে ইনিংসটি সাজিয়ে অপরাজিত থেকে ব্যাট উঁচিয়ে মাঠ ছাড়েন। যেটি হারা ম্যাচও সেরার স্বীকৃতি এনে দিয়েছে শামসুরকে।
জামালের হয়ে ইলিয়াস সানি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট নিয়েছেন শাহাদাত হোসেন।
এবারে রলিগে শেষ রাউন্ডের আগেই চার দল সুপার লিগ নিশ্চিত করে। প্রথম পর্বের শেষদিন অপেক্ষায় থাকতে হয় বাকি দুটি দলের সুপারের টিকিটের। শেষ পর্যন্ত সুপার লিগ নিশ্চিত করা দলগুলো হল- গাজী গ্রুপ (১৮ পয়েন্ট), আবাহনী (১৬ পয়েন্ট), প্রাইম দোলেশ্বর (১৬ পয়েন্ট), প্রাইম ব্যাংক (১৬ পয়েন্ট), শেখ জামাল ধানমন্ডি (১৪ পয়েন্ট), মোহামেডান (১২ পয়েন্ট)। আগামী ২৪মে থেকে সুপার লিগ মাঠে গড়ানোর কথা।







