একাত্তরের দুই ঘাতক সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার পর তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।
এর আগে দণ্ডাদেশ রাতেই কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সৈয়দ মারুফ হাসান।
মূলত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পরই ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।
সাড়ে ১০টার দিকে প্রাণভিক্ষা নাকচের নথি ও ফাঁসি কার্যকরের নির্বাহী আদেশ নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে।
ফাঁসির মঞ্চ ও জল্লাদের প্রস্তুতি, রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা প্রার্থনা নাকচ এবং সবধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার ফলে রাতের মধ্যেই চট্টগ্রামের ত্রাস সাকা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যায় দায়ী মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হবে ধারণা করা হচ্ছিল।
রাত নয়টার দিকে সাকা চৌধুরীর স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়েসহ প্রায় ত্রিশ জনের বেশি স্বজন তার সাথে শেষ দেখা করতে কারাগারের ভেতরে যান। পরে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘন্টার সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে সাকার পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী তার বাবা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেননি বলে জানান।
ছেলে আলী আহমেদ মাবরুরসহ মুজাহিদের স্বজনদের প্রায় ২৫ জন সদস্য কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন। রাত সোয়া বারটার দিকে বেরিয়ে এসে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয় নিয়ে মাবরুরও একই দাবি করেন।
এর আগে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে করা সাকা-মুজাহিদের প্রাণভিক্ষার আবেদন দুটি আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ সন্ধ্যার পর বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এর কিছুক্ষণ পরই বঙ্গভবনে যান আইন সচিব।
সকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পাওয়া এ দুই নেতা প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা সেই বিষয়ে জানতে দুই ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারের ভেতরে যান। প্রথমে তারা মৌখিক ভাবে দুইজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রাণভিক্ষার কথা জানান। পরে প্রাণভিক্ষার আবেদনের দুটি ফর্ম নিয়ে পূরণ করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেন বলে নিশ্চিত করেন কারা কর্তৃপক্ষ।






