দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরিতে বার বার যাচাই-বাছাইয়ের নামে ব্যাপক দুর্নীতি এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরিতে বানিজ্য চলছে বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে যাচাই-বাচাই এ হয়রানির শিকার সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা।
তারা সাত দফা দাবির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
দিনাজপুর প্রেসক্লাব ভবনে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,যাচাই-বাচাইয়ের নামে চলছে কোটি কোটি টাকার বানিজ্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিল ৭৮ হাজার মুক্তিযোদ্ধ। আর এখন দেশে ২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহন করছে। এতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের প্রভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুরে ১১০০ মুক্তিযোদ্ধা রনাঙ্গনে অংশগ্রহণ করলেও ১৪০০ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত হয়েছে। আরো ৫০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধ অনলাইনে আবেদন করেছেন। কোন দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না অথচ এমন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই বাছাই কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৭ জন ভুয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রদর্শন করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এরা কোন দিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। যা ডাক্তাররাই ভুয়া বলে সার্টিফিকেট প্রদান করেছেন। সরকারের ছত্রছায়ায় একটি মহল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চলছে অমুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে,এক শ্রেণির ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নেতারা যাচাই-বাচাইয়ের নামে বানিজ্য করছে। কোন কোন সময় ওই নেতারা ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার উৎকোচ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে সত্যায়ন করছে। এধরনের উদ্দ্যোগকে কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজেনে মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা ও সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতের শিববাড়ি মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জুয়েল। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৎকালিন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ সাইফুদ্দীন আখতার।








