মাশরাফি-মুস্তাফিজ ঝড় সেই সঙ্গে মাহামদউল্লাহ-সাকিবের অলরাউন্ডিং পারফর্মেন্সে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫১ রানের বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচের শুরুতে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতা ভাবিয়ে তুলেছিলো টাইগার ক্রিকেট ভক্তদের। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ মিঠুনের ৪৩ রানের ওপর ভর করে ১৩৩ রানের সাদামাটা টার্গেট দিতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফি, মুস্তাফিজ আর মাহমুদুল্লাহের বোলিং ঝড়ে ৬৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হারের কাছাকাছি পৌঁছে যায় আমিরাত।
টাইগারদের মামুলি সংগ্রহ মোকাবিলা করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আমিরাত। মুহাম্মদ কালিমকে ফিরিয়ে টাইগারদের শুভ সূচনা এনে দেন পেসার আল আমিন হোসেন। স্কোর বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই শূন্য রানে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
রোহান মুস্তাফাকে ফিরিয়ে আমিরাতের ২৪ রানের প্রতিরোধ জুটি ভাঙেন টাইগার ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কাটার বয় মুস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান।
সপ্তম ওভারের প্রথম বলেই সাইমন আনোয়ারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলেন মাশরাফি। মাহামুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি সংগ্রহ করেন মাত্র ১ রান।
অষ্টম ওভারে পরপর দুই বলে মোহাম্মদ শাহজাদ এবং এসপি পাতিলকে ফিরিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন কাটার মুস্তাফিজ। তারা দুজনই মুস্তাফিজের স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হন।
এরপর আর কোন ব্যাটসম্যানই টাইগারদের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। ১ রানের ব্যবধানে ফাহাদ তারিক এবং আমজাদ জাভেদ ফিরে গেলে আমিরাতের জন্য হার শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। জাভেদ হিট আউটের ফাঁদে পড়েন।
শেষ পর্যন্ত আমিরাত থামে ৮২ রানে। বাংলাদেশ জয় পায় ৫১ রানে। দু’টি করে উইকেট পান মাশরাফি, মুস্তাফিজ, সাকিব এবং মাহামুদউল্লাহ।
এর আগে, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের শুভ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ মিঠুন এবং সৌম্য সরকার। তাদের ওপেনিং জুটিতে প্রথম ৩২ বলেই তুলে নেয় ৪৬ রান।
বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সৌম্য সরকারকে ফিরিয়ে আমিরাতের প্রথম সাফল্য এনেদেন মোহম্মদ শাহাজাদ। শাহাজাদের ফুল লেন্থের বল তুলে মারতে গিয়ে আউট সাইড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৪ বল খেলে সৌম্য সংগ্রহ করেন ২৩ রান।
সৌম্যের বিদায়ে উইকেটে আসা সাব্বির রহমান থিতু হওয়া আগেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। ফাহাদ তারিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাব্বির। রোহান মুস্তাফার বলে ফেরার আগে মিথুনের সঙ্গে ২৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তিনি। যদিও তার অবদান মাত্র ৬ রান।
রোহান মুস্তফার দ্বিতীয় শিকার মোহম্মদ মিঠুন। ক্যারিয়ারের প্রথম টি২০ অর্ধশত থেকে হাত ছোঁয়া দূরত্বে (৪৭) স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।
মিঠুন ফেরার দুই রান বাদেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মুশফিকুর রহিম। মোহাম্মদ নাভেদের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৮ বল খেলে তিনি সংগ্রহ করেন ৪ রান।
১৮ ওভারে পরপর দুই বলে সাকিব এবং নুরুল হাসানকে তুলে নিয়ে বাংলাদেশের রানের চাকা থমকে দেন আমিরাত অধিনায়ক আমজাদ জাভেদ। তাদের বিদায়ে মাশরাফি ক্রিজে এলেও নাভেদের বলে শূন্য রানে ফেরেন টাইগার কাণ্ডারি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৩৩ রানে। মাহামুদউল্লাহ রিয়াদ ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
অমিরাতের পক্ষে সর্বোচ্চ দু’টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নাভেদ এবং আমজাদ জাভেদ।
ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।







