দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পিরোজপুরের নাজিরপুরে বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার। ভেলুয়া নদীতে চলমান নৌকার ঐতিহ্যবাহী ওই বাজার প্রতিদিন ভোর থেকে বসে চার-পাঁচ ঘণ্টার জন্য। নদীবেষ্টিত কয়েকহাজার কৃষিজীবী জনগোষ্ঠির পণ্যবেচাকেনার কেন্দ্র ওই বাজারটি।
ঝালকাঠি থেকে বেকুটিয়া ফেরিঘাট হয়ে সড়কপথে নাজিরপুর। সেখান থেকে ত্রিশ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে তালতলা খেয়াঘাট। আবার সড়ক পথে গাঁওখালী খাল দিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যের পথে, বৈঠাকাটা বাজার। শীতসকালের এমন অভিযান সন্ধান দেয় অন্য এক বাংলাদেশের। দক্ষিণের কচা ও কালিগঙ্গা নদী এখানে এসে নাম পেয়েছে ভেলুয়া। এই নদীর ওপরেই বৈঠাকাটা বাজার। পুরোপুরি প্রাকৃতিক একটি বাজার, নেই কোনো স্থায়ী অবকাঠামো। কৃষক ও ব্যবসায়ী সাত সকালে নৌকা নিয়ে ছুটে আসে এখানে। তারপর সবজির চারা থেকে শুরু করে নানারকমের কৃষিপণ্যকে ঘিরে বসে, কৃষক ও পাইকারের এই মিলনমেলা।
বেনাবেচা যাই হোক, বাজারটিতে তেমন হা হুতাশ নেই কৃষকের। অন্যসব জায়গার মতোই লোকসানের গল্প শুধু পাইকারের মুখে।
থাইল্যান্ডের রাচাবুরি, অষ্ট্রেলিয়ার সলোমন আইল্যান্ড কিংবা ভিয়েতনামের ক্যান থো নদীর ভাসমান বাজারের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্রপূর্ণ এই বাজার। বাজারটির নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানা লোককথা। কেউ কেউ বলেন, বৈঠা দিয়ে মাটি কাটার পর ছোট নদী হয়। পরে সেটা ভাঙতে ভাঙতে এখন বড় নদী হয়েছে। সেজন্যই এই নদীর নাম বৈঠাকাটা নদী।
দক্ষিণাঞ্চলবাসীর কাছে এই বাজার এক গর্বের ঠিকানা। পিরোজপুরের সাংবাদিক মনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, এখন এই এটি বড়সড় আকারের একটি গ্রোথ সেন্টারে পরিণত হয়েছে। এটা যদি বাংলাদেশের সরকার গ্রহণ করে তাহলে যেমন বাংলাদেশের কৃষি উপকৃত হবে তেমনই এই এলাকার মানুষও উপকৃত হবে।
দক্ষিণের মানুষের জীবন প্রবাহ মিশে আছে নদী নালায়। বহু বছরের পুরনো ভাসমান এই বৈঠাকাটা বাজার এই অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকের বিকিকিনির একমাত্র কেন্দ্র। কৃষি পর্যটন হিসেবে ভাসমান এই বাজারটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হতে পারে।
পুরো রিপোর্টটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।
https://www.youtube.com/watch?v=9d4eeOSz-oo







