সমাজের অবহেলিত-বঞ্চনার শিকার হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হওয়া তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোকে ভালোবাসা দিয়ে আপন করা যায়। সহজে মিশলে হওয়া যায় তাদের পরম আপনজন। এমন কথাই নিজের স্ট্যাটাসে জানালেন শিশুদের ব্যতিক্রমী বিদ্যাপীঠ বাতিঘরের পরিচালক তামান্না সেতু।
তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আপন করে নেয়া এই মানুষটি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বিজয় স্বরণি মোড় দিয়ে যাবো আর সিগন্যালে পরবো না; তা তো হয় না। রোজ রোজ সিগন্যালে আমার গাড়ি দাঁড়ালেই কিছু মানুষ আমার দিকে দৌড়ে আসে। আমিও তাদের দেখলেই গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামি। ঝাপ্টে জড়িয়ে ধরি। তারা ডানে বামে তাকিয়ে শশা, বাদাম, চিপসওয়ালা খুঁজে আমাকে এক প্যাকেট কিনে দেয়ার জন্য।
আশেপাশের গাড়ির ভেতরের মানুষগুলো আজব দৃষ্টিতে আমাদের দেখতে থাকে। কারণ, তাদের কাছে এরা শুধু অর্থ, উপহার, অধিকার চাওয়ার মানুষ, দেয়ার মানুষ নয়। গত সপ্তাহে আমি তাদের বাড়ি গিয়েছিলাম দাওয়াত খেতে। ছোট্র টিনের ঘরে তারা আমার জন্য জমিদারি রান্নার আয়োজন করেছিল। আমি ভাত খাবার সময় তারা আমায় ঘিরে বসে। একটা প্লেটে খাবার মেখে আমি নিজে খাই, তাদের খাওয়াই। তারা ভাত খায় আর ব্যাকুল হয়ে কাঁদে। ক্ষণে ক্ষণে আমায় জড়িয়ে ধরে।
বাড়ি ফেরার সময় হলে একটা বাটিতে খাবার গুছিয়ে দেয় আমার সন্তানদের জন্য। আরাফ আদি তাদের খালা ডাকে। তাদের রান্না আরাফ আদির খুব পছন্দ। কখনো কখনো আমি নিজেও তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদি। কেন, তা জানি না।
শুধু জানি, যতক্ষণ আমি তাদের সাথে থাকি নিজেকে ভারি সুখি মানুষ মনে হয়। আমি তাদের হিজরা নামে পরিচয় করিয়ে দেই; কি দেই না তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তারা আমাকে বোন বলে, বুনু বলে। তারা আজ আমার পরিবারের অংশ। আমার ঈদ, শবেবরাত, পহেলা বৈশাখ এখন তাদের ছাড়া অপূর্ণ। অপূর্ণ আমি নিজেও’।








