তনুর খুনীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়েছে। সেসময় শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, ব্যক্তির দায় অযাচিতভাবে প্রতিষ্ঠান বহনের মানসিকতা থেকে তনু হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, খুন-হত্যা-ধর্ষণের মতো অপরাধে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে এ ধরণের অপরাধ থামছে না। এজন্য বিচার বিভাগের দুর্বলতাকেও দায়ী করেন তারা।
ধর্মঘট চলার সময় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি থেকে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারও অভিযোগ করেন, তনু হত্যার তদন্তভার আইনশৃংখলা বাহিনীর হাত বদলের মাধ্যমে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহ্বানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোববার ক্লাস হয়নি। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা হয়েছে।
ধর্মঘট পালনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তনু হত্যার মতো ধর্ষণের ঘটনায় বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। সরকার আন্তরিক হলে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না সেই বিশ্বাস তাদের।
ছাত্র ধর্মঘটে একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষকরা তনুর খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, এ ধরণের ঘটনার বিচার হলে আইনের শাসনের বাস্তবতা থাকে। কিন্তু এখন সবাই যে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কথা বলছেন তা অমূলক নয়।
ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মতে, সবার উচিৎ এ ব্যাপারে সংহতি প্রকাশ করা এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া।
ধর্মঘটের পাশাপাশি তনু হত্যার প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধীদের মধ্যে এক ধরণের শাস্তি
এড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি এড়ানোর অলিখিত ব্যবস্থাটি আমাদের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, যে কোনো পেশাগত জায়গায় বা প্রতিষ্ঠানে একটি অপরাধ ঘটলে ভাবমূর্তি রক্ষায় অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং এটাকে ধামাচাপা দেয়াটাকেই দায়িত্ব মনে করা হচ্ছে,’ বলে মন্তব্য করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র।
তনু হত্যার প্রতিবাদে প্রগতিশীল ছাত্রজোট এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য ৭ এপ্রিল দুপুর ১২টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
সেসময় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম সোহেল সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, এক
দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে মামলা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে যে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায় সরকার এই ধর্ষণ ও হত্যার বিচারে যথেষ্ট আন্তরিক নয়।
বিভিন্ন সংগঠন ছাড়াও তনু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত খুনীদের গ্রেফতার এবং বিচার দাবি করেন।







