বরিশালের জনজীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক গ্রুপ Barisal-Problem & Prospect বরিশাল-সমস্যা ও সম্ভাবনা। এরইমধ্যে সদস্য সংখ্যা ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বরিশালের ঐহিত্যবাহী জেলখাল দখলমুক্ত করার অভিযান থেকে শুরু করে সম্প্রতি টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী উদ্ধারে নজিরবিহীন ভূমিকা রেখেছে এই গ্রুপের তরুণরা। মূলধারার স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, উদ্যমী এক ঝাঁক তরুণ সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টকে ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’ আইডেন্টিটি দিতে চাচ্ছে প্রশাসন। এটুআই প্রকল্পের আওতায় গ্রুপ সদস্যদের সিটিজেন জার্নালিস্ট হিসেবে কার্ড ইস্যু করেছেন জেলা প্রশাসক।
বিষয়টি নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষে Barisal-Problem & Prospect বরিশাল-সমস্যা ও সম্ভাবনা গ্রুপে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে কিছু প্রশ্ন করেন লেখক। এই ইস্যুতে দেয়া পোস্টে স্বতঃস্ফুর্ত অংশ নেন জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রুপের সম্মানিত সিটিজেন জার্নালিস্টরা। এ প্রসঙ্গ লেখক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি দিয়েই ইনবক্সে যোগাযোগ করেন গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। ইনবক্সে নমুনা আইডি কার্ডের ছবি দিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
ফেসবুকে নেয়া বরিশালের জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎকারের সারাংশ
সাঈফ ইবনে রফিক: বরিশালের আঞ্চলিক দৈনিকগুলোর অনুমতিতো জেলা প্রশাসনই দেয়। সেই হিসেবে, স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিভাবকের দায়িত্ব কতটা পালন করে জেলা প্রশাসন? তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতা যাচাই বা বেতন-ভাতা নিশ্চিতে অথবা অপসাংবাদিকতা রোধে আপনি কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?
DC Gazi Saif কমেন্টে জবাব দিলেন, বিদ্যমান আইন ও রীতি আনুযায়ী স্থানীয় সাংবাদিকদের সেবা প্রদানে জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন অব্যহত রয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতা এবং কতিপয়ের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উপলব্ধি করার জন্য জেলা প্রশাসনের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
সাঈফ ইবনে রফিক: আপনি কি ফেসবুকিংকে সিটিজেন জার্নালিজমের অংশ মনে করেন?
ডিসি বরিশাল লিখলেন, না। সিটিজেন জার্নালিজম অনেক বৃহৎ একটি বিষয়।
সাঈফ ইবনে রফিক: সিটিজেন জার্নালিজমওতো একটি মুক্ত বিষয়, যে কেউ যে কোনো প্রান্ত থেকেই এই পার্টিসিপেটরি জার্নালিজমে অংশ নিতে পারে। এতে তার ‘প্লাস্টিক কার্ড’ লাগবে কেন?
উত্তর: সম্মানিত সিটিজেন জার্নালিস্টগণের পরিচয়পত্র থাকলে তাঁদের দায়িত্বপালন সহজ হতে পারে।
প্রসঙ্গ: জেলা প্রশাসনের ইস্যু করা ‘সিটিজেন জার্নালিস্ট’ প্লাস্টিক কার্ড
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক Gitiara Nasreen ইনবক্সে লিখেছেন, ‘সাঈফ, কার হাতে যে কী ক্ষমতা, সে বস্তুটি এই অধম আর জানে না!’
একই বিভাগের আরেক অধ্যাপক Fahmidul Haq ইনবক্সে লিখেছেন, ‘ভাবনার বিষয়। তবে বিষয়টা ইন্টারেস্টিং! কারণ সিটিজেন জার্নালিস্ট স্বাধীন, কোনো মিডিয়া হাউসের অধীনে নয়। অন্যদিকে সে তো প্রশাসনেরও অধীনে নয়। কিন্তু ফারদার ইনভেস্টিগেশনের জন্য একটা আইডি থাকলে ভালোই হয়।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান Ar Raji ইনবক্সে লেখেন, ‘সিভিক জার্নালিজম, সিটিজেন বা কমিউনিটি জার্নালিজম যাই বলেন না কেন সেসব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছুই করার নেই। একজন ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর তো যে কোন সাংবাদিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চাইবেন- এই স্বাভাবিক। কারণ তারা কাজের মানুষ। কাজের মানুষ কাজ করবে, ভুল করবে, নিজের মতো করে সংশোধন করার চেষ্টা করবে বা করবে না- সব ধরনের সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে সে সব কাজে তদারকি করা। ডিসির যদি অন্য কোন অস্বাভাবিক উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে সব ধরনের সাংবাদকিতা থেকে দূরে থাকাই তার জন্য স্বাভাবিক আচরণ। এর ভিন্ন কিছু হলে বুঝতে হবে, হয় সাংবাদিক নয় ডিসি সাহবে- কোনো না কোনো পক্ষের অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। উভয়েই সুবিধার বিয়েতে বসে যেতে পারেন।
পরের কথা হচ্ছে, সংবাদপত্র যারা বের করতে চান তারা ডিসির সামনে এটা ডিক্লিয়ার বা ঘোষণা করেন যে উনি সংবাদপত্র বের করতে যাচ্ছেন- ডিসি তা রেকর্ড রাখেন। এর চেয়ে বেশি ভূমিকা ডিসির নেই। কিন্তু হাস্যকর হচ্ছে, সাংবাদিকরা যেমন বলেন “ডিক্লারেশন নেওয়া”, ডিসিও তেমন মনে করেন উনি সাংবাদিকদের “ডিক্লারেশন দিচ্ছিন”।সেখানে উনি পেশাগত পরিচয়পত্র কীভাবে দিবেন? এর কোনো আইনগত এখতিয়ার উনার নেই। উনি কোনো পর্ষদে এটি অনুমদন করিয়ে নিয়েছেন কি? এর আইনগত ভিত্তিই বা কী? যে কেউ যে কোনো কাজ তো করতে পারে না।রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নির্বাহীও যদি এমন কার্ড ইস্যু করা শুরু করে কেমন হবে চিন্তা করেন দৃশ্যটা।’
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল (Bulbul Ahsan) ইনবক্সে জানান, ‘সাংবাদিকতা করতে প্রশাসনের আইডি কার্ড লাগে না, সহায়তা লাগে । আর সিটিজেন জার্নালিজমতো আরও মুক্ত এবং স্বাধীন। নিজ আগ্রহ ও দায়বোধ থেকেই সিটিজেন জার্নালিজমের জন্ম, এখানে কারো পরিচয়পত্রেরই প্রয়োজন নেই। জেলা প্রশাসকের এই পরিচয়পত্র প্রশাসনের অনুমোদনহীন এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত সাংবাদিক- এমন বিতর্ক বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। যে কাজের প্রয়োজন নেই তাকেই বলে ‘অকাজ’। জেলা প্রশাসনে বুঝি ‘কাজে’-র অভাব?’
জনপ্রিয় টক শো উপস্থাপক ও সিনিয়র সাংবাদিক Anjan Roy ইনবক্সে বললেন, ‘প্রশাসন-প্রশাসকেরা এখনো হাতে উপনিবেশের শেকল আর চাবুক নিয়ে ঘোরে- এলশেসিয়ান যেমন নেকড়ে না, এইসব ‘ডিসি সাংবাদিক’ তেমন সাংবাদিক না। এগুলো পোষ্য স্তাবক বানানোর স্থুল আমলাতান্ত্রিক মস্করা।’
Shaugat Ali Sagor লিখলেন, সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতার ধারণাটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এখন প্রচলিত। এরা সাধারনভাবে নাগরিক কিন্তু চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ তারা গণমাধ্যমকে জানান বা সামাজিক মাধ্যম বা বিকল্প মিডিয়ায় তুলে ধরেন। প্রথাগত সাংবাদিকতার সঙ্গে এদের পার্থক্য হচ্ছে এরা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না। বরিশালের জেলা প্রশাসন নাগরিক সাংবাদিক হিসেবে কি বিবেচনায় পরিচয় পত্র ইস্যু করেছে তা বোধগম্য নয়। প্রথমত সাংবাদিকতা কিংবা সাংবাদিকদের সত্যায়ন করার এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের নয়। নাগরিক সাংবাদিকতার যে প্রথাগত ধারণা, তাতে এটিও জেলা প্রশাসনের বা সরকারি কোনো দপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন কিছু নয়। বলতে গেলে নাগরিক সাংবাদিকতা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বিষয়ও নয়। বরিশালের জেলা প্রশাসন কোন বিবেচনায় নাগরিক সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ইস্যু করেছেন- সেটি তারাই ভালো বলতে পারবেন। তবে সুস্পষ্টভাবেই তারা এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করেছেন। আর যারা জেলা প্রশাসনের পরিচয়পত্র নিয়ে নাগরিক সাংবাদিকতা করতে চাচ্ছেন- তাদের অভিপ্রায় যে সাংবাদিকতা নয়, তারা যে নাগরিক সাংবাদিকতার ধারণাটা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন- তাও পরিষ্কার।
Syed Ishtiaque Reza লিখলেন, ডিসিরা যেসব সাংবাদিক বানাবে তারা হব সব সাংঘাতিক। উপনিবেশিক মানসিকতা থেকে জেলা প্রশাসকরা মনে করেন তারা জেলা শাসক। সেই মানসিকতা থেকে এরা এখন সব কিছু করে, সাংবাদিকও বানায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রশ্ন উপস্থাপনের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। তিনি লিখেছেন, ‘মতামত প্রদান অনেক সময় বিষয়বস্তু উপস্থাপনের উপর নির্ভর করে। তাই একই বিষয় ভিন্ন ভিন্ন ভাব ও ভাষায় উপস্থাপনার কারণে অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন ফতোয়া পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কিভাবে বিষয়টি সম্মানিত বিশেষজ্ঞগণের নিকট উপস্থাপিত হয়েছিল তা বোঝা যাচ্ছে না। জানলে সম্মানিত গবেষকের মানস প্রবণতা অধিকতর স্পষ্ট হতে পারে।
সাঈফ ইবনে রফিক: চ্যানেল আই অনলাইনের পক্ষে এখানে সাঈফ ইবনে রফিক প্রতিবেদন তৈরি করছেন। এটা জার্নালিজম, রিসার্চ নয়।
বরং জেলা প্রশাসকের এই উৎকণ্ঠার বিষয়টিই আরও স্পষ্ট হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক Salim Reza Newton-এর কিবোর্ডে, ‘আমি খোদ সাংবাদিকতার বিদ্যমান মডেলটাকেই খুব একটা কাজের বলে মনে করি না। এটার সার্বিক পর্যালোচনাতে মনোযোগী থাকতে চাই। নাগরিক সাঙবাদিকতা নিয়ে কথা উঠলে সেটাকেও সার্বিক চোখে দেখতে চাই, দেখাতে চাই। স্রেফ একটা টুকরা-প্রশ্ন নিয়ে হুট করে একটা মন্তব্য করতে চাই না।
নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতে তাতে করে আমার মিসআন্ডারস্টুড হওয়ার মুশকিল থেকে যেতে পারে।
মানে বরিশালের পরিপ্রেক্ষিতে ..’
পাবলিক পোস্টে সিটিজেন জার্নালিস্টদের কমেন্ট
(যতটুকু মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় ছাপাযোগ্য। ভুল বানানগুলো যথাসম্ভব ঠিক করা হয়েছে।)
Dipu Hafizur Rahman: সাঈফ ইবনে রফিক ভাই, বিষয়টি আপনি গুরুত্বের সাথে নিয়ে অনেক ভাবছেন এবং সময় দিচ্ছেন পর্যালোচনায় – এটি ইতিবাচক দিক এবং আপনি ধন্যবাদ পাওয়ার দাবীদার। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোথাও কোথাও (আগের লেখাসহ) আমি যেন আপনার এক ধরনের ক্ষোভের ছায়া দেখেছি, আমার ভুল হতেই পারে। কিন্তু আপনি যা আন্তরিকতার সাথে করছেন, মূল বিষয় সম্পর্কে মিনিমাম জ্ঞান ছাড়াও দুই/একজন ব্যক্তিগত কোন ক্ষোভকে পুঁজি করে এটাকে ভুল হিসেবে প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠবে তাতে আমার সাথে আপনি বা অনেকেই সন্দেহমুক্ত সম্ভবত। সে যাই হোক, বিষয়ভিত্তিক বলি – মুল কথা হলো “উদ্যেশ্য।” সিটিজেন জার্নালিজম কনসেপ্ট বাংলাদেশে উদীয়মান একটা ধারণা, আমাদের মতো অনেকেই স্টাডি করছে, ধারণ করার চেষ্টা করছে এবং এর ইতিবাচক দিক ব্যবহারের চেষ্টা করছে… গবেষণা হবে, বিভিন্ন ডাইমেনসনে চেষ্টা করা হবে সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে এবং রাইট ট্রাকে রাখতে। নতুন কনসেপ্টে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমেই এর পুর্নতা আসবে।
সিটিজেন জার্নালিজমের ইতিবাচকতার পাশাপাশি অসৎ ব্যবহারের নেতিবাচকতা রোধ করতে একটা ডাটাবেজ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমার মনে হয়, আর তার স্বার্থে কার্ডের মাধ্যমে প্রসেস করা যেতেই পারে। কার্ড প্রদানের মাধ্যমে বাড়তি কোন সুবিধা দেয়া হবে না সেটা নিশ্চিত।
আর, অনেকেই ইদানিং নিজেকে সিটিজেন জার্নালিস্ট ভাবতে পছন্দ করছে অনেকটা মুল কনসেপ্ট না বুঝেই কিন্তু তারা ওউন করছে বিষয়টি, তাদের যদি মুল বিষয়টি বুঝাতে হয় তাহলে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই আর প্রশিক্ষণের আওতায় আনতেও একটি নিয়মতান্ত্রিকতা ফলো করা যেতে পারে। গুছিয়ে লেখা হলো না, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা পার করতে করতেই লিখলাম বলে। ফাঁকে ফাঁকে হয়তো আরো কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করবো যদি প্রয়োজন আর সময়ের সমন্বয় ঘটাতে পারি।
ধন্যবাদ আপনার ইতিবাচক ভাবনার জন্য।
Wahed Sohel: একজন জেলা প্রশাসক কোন আইনের আলোকে citizen journalists পরিচয়পত্র প্রদান করেলেন? Citizen journalists কার কাছে জবাবদিহি করবেন? Citizen journalism এর পরিচালনা বিধি প্রকাশ করার অনুরোধ রইল ।
Murtaza Jewel: সিটিজেন জার্নালিষ্ট একটি ইতিবাচক বিষয়। বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা পেইজের ৫০ হাজার এর বেশী সদস্য তাদের চারপাশের সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরে একধরনের মুক্ত সাংবাদিকতা করে আসছেন আনেক দিন আগে থেকেই। বরিশালের অনেক পেশাদার সাংবাদিকরাও যুক্তিসংগত ও প্রয়োজনীয় কারণেই এর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং আছেন। আমার মতে অনলাইন ভিত্তিক বিশাল এ কর্মযজ্ঞে যে কেউ যুক্ত হতে পারে। তবে যেহেতু সন্মানিত সিটিজেন জার্নালিষ্টরা মুক্ত সাংবাদিকতা থেকে পরিচয়পত্রে যুক্ত হয়েছেন সেক্ষেত্রে তাদের কাজের ধরণ, প্রয়োগ, ক্ষেত্র, সীমাবদ্ধতা, পদ্ধতির একটি নীতিমালাও দরকার। যা অপপ্রচার, সকল যৌক্তিক, অযৌক্তিক পশ্ন এবং বিভ্রান্তি দূর করবে। তবে আমি মনে করি যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে যোগ্য সিটিজেন জার্নালিষ্ট অর্থাৎ আই ডি কার্ড প্রাপ্তরা একটি দায়বদ্ধতার আওতায় এসেছেন।
Reza Zaid: আগে আমরা ‘সিটিজেন’ হই– এরপর না হয় জার্নালিজম। বাস্তবতা হচ্ছে, ‘নাগরিক’ বলতে যা বোঝায়, আমরা অনেকেই তা হতে পারিনি- সাঈফ ইবনে রফিক।
নাগরিক তৈরি করতেও একটা প্লাটফর্ম চাই, ভালো কাজের উদাহরণ চাই, সচেতনতা চাই, আলোচনা চাই। বরিশাল-সমস্যা ও সম্ভাবনা ফোরামটা কি আস্তে আস্তে এগুলোর দিকে এগুচ্ছে না? কেউ ভালো লিখছে, কেউ সামাজিক সম্যসা তুলে আনছে, কেউ একটা ভালো কাজ তুলে আনছে। অন্যরা তা দেখে নিজেও ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত হচ্ছে। নাগরিকের দায়িত্ব, অধিকার, আচরণ বুঝতে/জানতে অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এটা কি সুনাগরিক হওয়ার পথকে সুগম করবে না? ভালো নাগরিক গঠনে গুণী সিটিজেন জার্নালিস্ট চাই।
Lovely Jawad Mahi: কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিন্ত করণে সিটিজেন জার্নালিস্ট কার্ড অবশ্যই জরুরী।
Moin Ahmed: সিটিজেন জার্নালিষ্টদের অাইডি দিলে অপসাংবাদিকতা বন্ধ হবে।
Shabbir Ferdous: Well written. But as far as I think this citizen journalism step is sort of like honorary post to create public awareness. I don’t think its professional, nor anyone will make a living from it. It’s a good change for the youth of Barisal. I hope it will generate positive vibe everywhere.
Md Mamun Hossain: আমার গ্রামের রাস্তাটা র্দীঘদিন খেকে গাড়ি ও মানুষের চলাচলের অনুপযোগি হয়ে গেছে। এক সাংবাদিক ভাইকে বললাম, সাংবাদিক ভাই বললো কিছু খরচ দিলে নিউজ করে দিবে তাহলে হয়তো কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করতে পারে। অন্যদিকে গ্রামের একটি ছেলে রাস্তার ছবি তুলে ইন্টানেটে দিলো তারপর ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে পড়লো, কিছু দিনের মধ্যে রাস্তার কাজ শুরু হয়ে গেল। আর এর নামই সিটিজেন জানালিস্ট। একবার আমার গ্রাম একটি অনুষ্ঠানে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতারা এসেছিলেন। তারা অনেক প্রতিশ্রুতি দিছেন । তাদের সাথে আমার চেনা বরিশালের কয়েকটি লোকাল পত্রিকার কমীরা ছিলো, কিছু ছবি তুলো তারা অপেক্ষা করছিলো। কিছুক্ষণ পর একজন এসে তাদের সবাইকে ডেকে হাতে কি জানি দিলো তারপর তারা সবাই চলে গেল। কিন্তু কোন সিটিজেন জার্নালিষ্টকে ছবি তুলতে দেখলাম না। এখন আপনি বলতে পারেন তারা সাংবাদিক না। আমিও আপনার সাথে একমত সিটিজেন জার্নালিষ্ট কোন পেশাদার গণমাধ্যম কমী না। তারা হলো এক এক জন উদ্যোক্তা যিনি তার এবং তার আশেপাশে জনসাধারণের সমস্যাগুলো সবার সাথে শেয়ার করবে এবং সমস্যা সমাধানের জন্য সবাই দলবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। সাঈফ ভাই আমি আপনার লেখা পড়েছি তাতে বুঝলাম আপনি সিটিজেন জার্নালিষ্টের বিপক্ষে না। শুধু পরিচয়পত্রটা নিয়ে একটু দ্বিমত পোষণ করছেন্। ডিসি স্যার তো সবাইকে পরিচয়পত্র দিতে পারছে না। যারা স্বেচ্ছয় তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে তাদের একটি পরিচয়পত্র দিচ্ছে। যাতে তার কাজের প্রতি ভালোবাসাটা বেড়ে যায়। আপনি যদি চান যারা এমন কাজ করে তাদের আপনি একটি পরিচয়পত্র দিবেন তাও দিতে পারেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশ গড়বে তারই ধারাবাহিকতায় সিটিজেন জার্নালিষ্ট কাজ করে যাচ্ছে।
Sheakh Reyad Muhammad Noor: মুখোশধারী ‘খোটবাজ’ নিপাত যাক…..নিরাপদ ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ মুক্তি পাক…..
মোহাম্মদ হানিফ: সিটিজেন জার্নালিস্টরা নিজে টাকায় এম বি কিনে ভালো কিছু লিখে। রাস্তায় ময়লা থাকলে দেখিয়ে দেয়। নিজে পরিস্কার করে। এটা ভালো কাজ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







