জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এই রায় ঘোষণা শুরু করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। আর আসামিপক্ষে আছেন আইনজীবী রানা কাউসার।
এই মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় দিচ্ছেন।
২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষবর্ষের ছাত্র জুবায়ের আহামেদ ছাত্রলীগের কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন।
জুবায়ের নিহত হওয়ার পর ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নিবন্ধক হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
২০১২ সালের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান দু’জন।
বিচারিক আদালতের ওই রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম।এদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু আত্মসমর্পণ করে। বাকিরা পলাতক।
বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়: পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ ও ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম এবং অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অরূপ পলাতক, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।






