২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে আয়করের অবদান ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগুচ্ছে।
শুক্রবার রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে আমরা রাজস্ব আয়ের অবদান বাড়াতে চাই। বর্তমানে জিডিপিতে আয়করের অবদান মাত্র ১১ থেকে ১২ শতাংশ। যা অন্যান্য দেশে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যে এই হার ২০ শতাংশে উন্নীত করা। আশা করি তা সম্ভব হবে।
আয় প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে মুহিত বলেন, আগে ১৪ লাখ মানুষ আয়কর দিতো। এখন আয়কর দিচ্ছে প্রায় ৩১ লাখ মানুষ। যুবকেরা আয় দিতে এগিয়ে আসায় এই সংখ্যা বাড়ছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক।
ভবিষ্যতে মূসক এবং আয়কর অনবরত বাড়বে অন্যদিকে কাস্টমস আয় কমবে এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কাস্টমসের মাধ্যমে যাতে অনাকাঙ্খিত দ্রব্য (ড্রাগ জাতীয়) দেশে না আসে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এবং ভবিষ্যতে এটাই হবে কাস্টমস বিভাগের প্রধান কাজ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ জন্য বিদেশিদের অর্থের অপেক্ষা করতে হয় না। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বতর্মানে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পা দিয়েছি। তবে পুরোপুরিভাবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে রপ্তানিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক শিল্পে রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত (জিএসপি) সুবিধা স্থগিত রেখেছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোতে যেন জিএসপি প্লাস সুবিধা পাই সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যবসার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ দরকার। এটা নিশ্চিত করা হলে ব্যবসার প্রসার হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান প্রমুখ।








