মৃত্যুর কাছে পরাজিত হয়ে চলেই গেলন জাতীয় পতাকার সম্মান বাঁচানো শিক্ষক বেলাল হোসেন (৪৬)। ১১ জুন স্কুলের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে হাত ফসকে মাটিতে পড়ার উপক্রম হয়। এসময় জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়ে অসম্মান ঠেকাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শিক্ষক বেলাল হোসেন। এতে তার শরীরে অর্ধেক অংশ পুড়ে গেলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। জীবন দিয়ে জাতীয় পতাকার সম্মান বাঁচানো এই শিক্ষকের সম্মানে জানাজায় ঢল নামে হাজারো মানুষের।
বেলাল হোসেনের আত্মীয় খোরশেদ আলম বলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের ঘুলিয়াদহ কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বেলাল হোসেন। ঘটনার দিন ১১ জুন সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিলো। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রতিদিনের মতো ৯ টার দিকে স্টিলের পাইপে বাঁধা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলেন তিনি। পাইপটি কিছুটা ভারী হওয়ায় হাত থেকে ফসকে যায় জাতীয় পতকা বহনকারী ওই পাইপটি। 
জাতীয় পতাকাটি মাটিতে পড়ে যাতে অসম্মানীত না হয় তার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন তিনি। এসময় জাতীয় পতাকাটি মাটিতে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারলেও স্কুল ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া খোলা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যায় পাইপটি। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুড়ে যায় শরীরের অর্ধেক। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতে নিলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের রজব আলীর ছেলে। স্ত্রী, ১৩ বছরের মেয়ে ও ৬ বছরের একটি ছেলে সন্তান নিয়েই ছিলো তার সংসার। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকের ছায়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা।







