উরুগুয়ের তারকা ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজ বলছেন নিজ দলের ডিফেন্ডারদের ওপর তার অগাধ আস্থা। আর তাদের গড়া রক্ষণ দিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বিশেষ করে কাইলিয়ান এমবাপেকে আটকে দেয়া সম্ভব বলেও বিশ্বাস তার।
শুক্রবার নিঝনি নভোগোরদে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে ও ফ্রান্স।
উরুগুয়ে বনাম ফ্রান্স ম্যাচকে এক কথায় বলা যেতে পারে জমাট রক্ষণের সঙ্গে গতিময় আক্রমণের খেলা। এমবাপে, পল পগবা, অ্যান্টনে গ্রিজম্যান, অলিভিয়ের জিরুদদের নিয়ে গড়া ফ্রান্স ছন্দে থাকলে কী করতে পারে সেটা তো আর্জেন্টিনা ম্যাচেই দেখা গেছে। ২-১ গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচকে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে দিদিয়ের দেশমের দল নকআউট করে দিয়েছেন মেসিদের। ১৯ বছর বয়সী এমবাপে একাই করেছেন জোড়া গোল।
অন্যদিকে ডিয়েগো গডিন, হোসে জিমিনেজদের নিয়ে গড়া উরুগুয়ে রক্ষণ আছে দারুণ ছন্দে। বিশ্বকাপে ৭ গোলের বিপরীতে মাত্র এক গোল হজম করেছে অস্কার তাবারেজের দল। সেটিও আবার দ্বিতীয় রাউন্ডে, পর্তুগালের মতো দলের বিপক্ষে।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে একইসঙ্গে খেলেন গডিন, জিমিনেজ ও গ্রিজম্যান। একই সঙ্গে খেলায় গ্রিজম্যানের শক্তিমত্তা আর কৌশল সম্পর্কে তেমন একটা অজানা কিছুই নেই গডিনদের। প্রকৃত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেন এমবাপে।
কিন্তু দারুণ ফর্মে থাকা উরুগুয়ে ডিফেন্সে তেমন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারবেন না এমবাপে। এমনটাই বলছেন সুয়ারেজ, ‘সবাই জানে এমবাপে কী দারুণ এক ফুটবলার। তবে আমরাও কিন্তু জানি কীভাবে তাকে আটকে রাখতে হয়।’
দুই দলের মোট সাত দেখায় ২-১ জয়ে এগিয়ে উরুগুয়ে। বিশ্বকাপে দুই দেখায় একমাত্র জয় পাওয়া দলটিও কিন্তু তারাই। সেটি অবশ্য ৬২ বছর আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ইতিহাস। সবশেষ ২০১০ বিশ্বকাপের লড়াইয়ে গোলের খাতা খুলতে পারেনি কোনো দলই।
পরিসংখ্যান আর রক্ষণ নিয়ে যদি স্বস্তিতে থাকেন সুয়ারেজ, তাহলে নিজের পজিশন নিয়েই অস্বস্তিতে থাকার কথা তার। কারণ চোটে ফ্রান্স ম্যাচে অনেকটাই অনিশ্চিত তার আক্রমণসঙ্গী এডিনসন কাভানি!
দ্বিতীয় রাউন্ডে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে একাই ছিটকে দিয়েছিলেন কাভানি। সেই তিনিই যদি না থাকেন ম্যাচে, ফ্রান্সের বুক থেকে বোঝাটা নেমে যায় অনেকখানি। পিএসজিতে একসঙ্গে বহুদিন খেলায় কাভানি যে কতখানি ভয়ঙ্কর তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন বর্তমানে জুভেন্টাসে খেলা ফরাসি মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতুইদি।
‘আমরা একসঙ্গে অনেকদিন খেলেছি। যদিও ইদানীং আমাদের কথা হয়নি, কিন্তু আমি এতটুকু জানি যে সে দারুণ একজন মানুষ। সে সহজে হাল ছাড়ে না। কাভানিকে ছাড়া উরুগুয়ে দল যেন খোঁড়া এক দল। আপনি চাইলেই সবার বিকল্প পাবেন না। কাভানি এরকমই একজন খেলোয়াড়। উরুগুয়ে অনেকখানি পঙ্গু হয়ে যাবে সে না থাকলে।’







