ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার জামিনের বিষয়ে শুনানি চার মাসের জন্য মুলতবি (স্ট্যান্ড ওভার) করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের দেয়া আজকের এই আদেশের ফলে খাদিজার জামিন চার মাস স্থগিত থাকছে বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।
আদালতে আজ খাদিজার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।
অন্যদিকে আজ শুনানিতে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের টকশোতে উপস্থাপক-আলোচকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে বলেছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা বিরুদ্ধে ২০২০ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়। কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানা পুলিশের করা মামলায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর খাদিজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার পর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
দুই মামলায় বিচারিক আদালতে কয়েক দফায় খাদিজার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হবার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি খাদিজাতুল কুবরাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে চেম্বার আদালতের জামিন স্থগিত আদেশ বাতিল চেয়ে খাদিজার করা আবেদনের শুনানি চার মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রেখে সোমবার আদেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ। আজকের এই আদেশের ফলে খাদিজার জামিন চার মাস স্থগিত থাকবে বলে জানান রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী।
খাদিজা যে ফেসবুক ওয়েবিনার হোস্ট করেন সেখানে একজন অতিথি বক্তার বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগের পাশাপাশি মামলায় বলা হয়, খাদিজা ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলা করার চেষ্টা করছেন’, ‘সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণকে জড়িত করছেন’ এবং ‘বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন’। এছাড়া অভিযুক্তরা ‘বাংলাদেশের বৈধ সরকারের পতনের’ চেষ্টা করছিলেন এবং ‘প্রধানমন্ত্রী, সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অপমান করেছেন।’








