দেশে ক্রমাগত চাহিদা বাড়ছে চাঁদপুরের লোনা ইলিশের। জেলায় প্রতি বছরের মতো এবারও লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে প্রচুর ইলিশ। যদিও এই ইলিশ কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় লোনা ইলিশের চাহিদা থাকায় প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে লবণ দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণ করেন ব্যবসায়ীরা। এসব ইলিশ পাঁচ-ছয় মাস ওই অবস্থায় রেখে বিক্রি করা শুরু হয় এপ্রিল-মে মাসে। অনেক বছর ধরেই এ প্রক্রিয়ায় ইলিশ সংরক্ষণ করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংরক্ষণকারীরা জানান, ইলিশ মৌসুমে মাছের দাম কমলে কিনে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে পরে তা বাজারজাত করা হয়।
লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা প্রতি কেজি ইলিশ বাজারে বিক্রি হয় সাতশ’ থেকে আটশ’ টাকায়। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই ঝুঁকছেন এ ব্যবসায়। এক বছরে বিক্রি না হলেও দেড় বছর রেখেও বিক্রি করা যায় লোনা ইলিশ। এতে মাছ নষ্ট হয় না বলে জানান সেখানকার এক লোনা ইলিশ ব্যবসায়ী। শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় এ মাছ সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলছেন, লবণ দিয়ে ইলিশ সংরক্ষণের কারণে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয়। এছাড়া সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করা না হলে লবণাক্ত ইলিশ মানবদেহের জন্য অনেক ক্ষতিকর।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুন নবী মাসুদ জানান, সংরক্ষণের ৫/৬ মাস পর লোনা ইলিশ খেলে তা থেকে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, চর্মরোগের মতো রোগের আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, লোনা ইলিশে লবণ থাকার কারণে তাদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে।
খোলা আকাশের নীচে ইলিশ কেটে তা সংরক্ষণের জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এই ইলিশের বেশিরভাগই নিম্নমানের ও পচে যাওয়া বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।






