বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির শীর্ষ নেতাদের মতে, সব আইনী বাধা শেষ, এখন ক্ষমতা গ্রহণে আর কোনো বাধা নেই। এখানে কেউ এসে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। যারা জিতেছে, তারা এমনিতেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। এখন থেকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এমনটাই জানালেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন সভাপতি মিশা সওদাগর। এ সময় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।
আজ বুধবার বিকালে ক্ষমতা গ্রহণ উপলক্ষে রাজধানীর বিএফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে নির্বাচিত নতুন কমিটি। এখানে নির্বাচিত সদস্যরা ছাড়াও অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রনায়িকা কবরী, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নিবাচনের কমিশনার মনতাজুর রহমান আকবরসহ অনেকে।
চিত্রনায়িকা কবরী বলেন, ‘আমাদের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রিতে অনেক সমস্যা আছে। শিল্পীদের অনেক অভাব–অভিযোগ আছে। আশা করব এসব দূর করতে বর্তমান কমিটি কাজ করবে।’
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘এবার নির্বাচনে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এটা কখনোই আশা করিনি। আমি আশা করব, যারা পরাজিত হয়েছেন, তারাও নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলচ্চিত্রের শিল্পীদের উন্নতির জন্য কাজ করবেন।’

গত ৫ মে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন সকালে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হলেও তাতে আপত্তি জানান পরাজিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজন। পরে তাদের আপত্তির কিছু সত্যতাও পাওয়া যায়। যেমন নির্বাহী কমিটির একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলেও পরে দেখা যায় তিনি নির্বাচিত হননি। তার জায়গায় আরেকজন নির্বাচিত হয়েছেন। সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর সানির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বেড়ে যায়।
এরপর চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে পরাজিত প্রার্থী প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী রমিজ উদ্দিন ঢাকার দ্বিতীয় সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে রীট করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে তা স্থগিত করেন জেলা দায়রা জজ। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরে অন্তর্বর্তিকালীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন।
আদালতের নিষেধাজ্ঞার মাঝেই গত ১১ মে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ট সদস্য শপথ নেন। যারা সেদিন শপথ নিতে পরেননি, সংবাদ সম্মেলন শেষে তাদের মধ্য থেকে আলীরাজ, নাসরীন, সাইমন আর ইমন আজ শপথ নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তাদেরকে শপথ বাক্য পাঠ করান নতুন সভাপতি মিশা সওদাগর। এখনো আরও কয়েকজন শপথ নেননি।








