গণশুনানি হয়েছিলো ফ্রেব্রুয়ারি মাসে, খোঁজা হচ্ছিলো গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা। কিন্তু তখন গণশুনানিতে এসবের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ এনার্জী রেগুলেটরি কমিশন। ফলে সেই দফা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেও এবার হঠাৎ করেই ঘোষণা দিয়ে গাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিইআরসি।
বিশ্ববাজারে এখন তেলের দাম কমতির দিকে, তার মানে বিদ্যুত উৎপাদনে এখন খরচের পরিমাণটাও হচ্ছে কম। এমন সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর এমন সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যেহেতু বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন কম সুতরাং এই সময়ে হুট করে এমন সিদ্ধান্তের যেমন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। তেমনই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এমন সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য অনেকে চেষ্টা করবে সেটাও জনমনে বেশ বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলেই মন্তব্য অর্থনীতিবিদদের।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, এর আগেও যখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিলো তখন বলা হয়েছিলো, বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল করা হবে। সেটারও কোনো খোঁজখবর কারো কাছে নেই। কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সে টাকা, কতটা রয়েছে সেটাও জানা নেই কারো। শুনেছি সেই তহবিলে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, তাহলে ওসব কেন ব্যবহৃত হচ্ছে না।
একই কথা বললেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য খন্দকার মোতাহিদুর রহমান। তিনি বললেন, গ্যাস তো আর বর্ডার হয়ে আমদানী-রপ্তানী করা হয়না। সুতরাং উৎপাদন খরচ তো আর বাড়ছে না। সেখানে যদি বাড়তি টাকা গ্রহণ করা হয় তাহলে কেন উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর কাজেই ব্যয় হওয়াই উচিত।
গ্যাসের দাম বাড়লে বাড়বে জীবনাত্রার মান। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ জনগণের উপর। এসবের ক্রমাগত প্রভাব পড়বে সাধারণ জণগণের জীবনে। এমনটাই বলছিলেন এই দুই অর্থনীতিবিদ।
আনু মুহাম্মদ বলেন, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, মানুষের আয় বেড়েছে, সুতরাং ব্যয় বাড়লে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। আদতে সেটা তো কোনো সমাধান নয়। আয় বেড়েছে বটে কিন্তু সেটা সবার নয়, গড় করে আয় বাড়ার হিসেব কখনোই সবার বাড়তি আয়কে নির্দেশ করেনা।
শুধু জনজীবনে নয় সার্বিকভাবে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সবদিকেই। খন্দকার মোতাহিদুর রহমানের বক্তব্য, বিদ্যুত ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়ে যা্বে উৎপাদনখরচ। শিল্পপতিদের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাড়বে সব জিনিসপত্রের দাম। এর ফলে স্বভাবতই অনেকাংশে কমে আসবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ। সেটাও তো ক্ষতিই বয়ে আনবে পুরো দেশের উপর।
সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় জণগনের উপর। তবে এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও। সেটা একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যায় পরতেই হবে দেশকে।
তবে সমাধান আনতে কি করা যেতে পারে সেকথা শোনালেন এই দুই অর্থনীতিবিদ। আনু মুহাম্মদের মতে, এই সমস্যার সমাধান তো আর জনগনের হাতে নেই। এর সমাধান করতে পারবে একমাত্র সরকার। এসবই দেখতে হবে উপযোগিতার ভিত্তিতে। জাতীয় সংস্থাগুলোর বিকাশ ঘটাতে হবে, বৃদ্ধি করতে হবে জাতয়ি মালিকানা। উল্টো চাপ বন্ধ না করলে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে আমাদের অর্থনীতি।
আর খন্দকার মোতাহিদুর রহমান বললেন অন্য একটি সমাধানের কথা, এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগ বিরোধী। দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে তাহলে এখন নতুন করে জ্বালানী তেলের দাম পুন:নির্ধারণ করা উচিত। তাহলেই দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে দেশ।






