নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামের আন্তর্জাতিক অভিষেক ম্যাচ। মাঠে উপস্থিত ২৩ হাজারেরও বেশি দর্শক। অনেকদিন বাদে এমন গ্যালারি উপচে পড়া দর্শকও অবশ্য অনুপ্রেরণা হতে পারল না বাংলাদেশের জন্য। র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার কাছে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে গেছে জেমি ডের দল।
প্রীতি ম্যাচ হলেও ম্যাচটি ছিল সাফ ফুটবলের পোশাকি মহড়া। সাফের আসর শুরু হতে বাকি এক সপ্তাহেরও কম। দলের বাকি খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখতেই এশিয়ান গেমসে খেলা দল থেকে ১০জনের বেশি ফুটবলারকে বিশ্রামে রেখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দল সাজান লাল-সবুজ কোচ।
ম্যাচের শুরু থেকে গতিময় খেলাই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্বাগতিকদের পায়েই। কিন্তু আচমকা এক শটে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে এগিয়ে যায় খেলার ধারার বিপরীতে।
বল নিয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে গিয়েছিলেন স্বাগতিক ফুটবলাররা। দল আক্রমণে ছিল বলেই কিনা গোলবারের বাইরে আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল। সেই সুযোগে প্রায় মাঝমাঠ থেকে নেয়া দূরপাল্লার শটে ১০ মিনিটে লঙ্কানদের এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ ফজল।
গোল খেয়েই গা ঝারা দিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ওই গোলের পরই রক্ষণাত্মক হয়ে গেছে লঙ্কানরা। নিজেদের ডি-বক্সে চার-পাঁচজন খেলোয়াড়কে রক্ষণদূর্গ বানিয়ে লাল-সবুজদের প্রতিটি আক্রমণ গোড়ায় নষ্ট করে দিয়েছে পাকির আলির দল। তাতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকাই ছিল বাংলাদেশের নিয়তি।
দ্বিতীয়ার্ধেও মঞ্চস্থ হয়েছে বাংলাদেশের ব্যর্থতার নাটক। বিশেষত ফরোয়ার্ড শাখাওয়াত হোসেন রনির গোলের সুযোগ হাতছাড়ার মহড়া ছিল রীতিমত চোখে লাগার মতো।
একাধিক অর্ধ সুযোগের ভিড়ে ৭৩ মিনিটে গোলের একটি পূর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। বদলি খেলোয়াড় নাবিব নেওয়াজ জীবনের লম্বা করে বাড়ানো বলে যদি মাথা ছোঁয়াতে পারতেন শাখাওয়াত রনি, তাহলে সমতায় ফিরতে পারত বাংলাদেশ। সেটা হয়নি।
ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আরেকবার হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফরোয়ার্ড জাফর ইকবালের লম্বা পাস স্বাগতিক খেলোয়াড়দের মাথায় ছোঁয়ার আগেই পাঞ্চ করে ফিরিয়ে দেন লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান পেরেরা। পরে অলআউট ফুটবল খেলেও গোলের তেমন কোনো সুযোগ গড়া হয়নি বাংলাদেশের। হার মেনেই শেষ করতে হয়েছে সাফের প্রস্তুতি ম্যাচটিতে।








