গতকাল কম্বোডিয়া সফরের উপর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির তথ্য উপস্থাপন করেছেন তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করে, তার জন্য বেগম খালেদা জিয়া ও জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় এই মানহানিকর, বানোয়াট তথ্য প্রচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুমকি দিয়েছে দলটি।
শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা দেন।
ফখরুল বলেন, অনৈতিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়া সফরের উপর সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার কল্পিত পাচারকৃত সম্পদের বর্ণনা এবং কল্পিত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কল্পিত সম্পদ সম্পর্কে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কাল্পনিক এই সব দুর্নীতির কল্পকাহিনীর মূল উদ্দেশ্য দেশের সব চেয়ে জনপ্রিয় নেতা বেগম খালেদা ও তার পরিবারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা মাত্র। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এই সব কল্পিত তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
তিনি বলেন, কল্পিত এই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম স্বাভাবিকভাবেই তা প্রকাশ করেনি। কানাডা ভিত্তিক একটি কথিত টেলিভিশন চ্যানেলের বরাত দিয়ে সামাজিক মাধ্যমের ততোধিক অপরিচিত কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্য রটনা করা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তানদের কল্পিত দুর্নীতির অর্জিত সম্পদ সৌদি আরবের একটি শপিংমল ‘আল আরাফা’ এবং কাতারে বাণিজ্যিক ভবন ‘তিনারাট’ এ বিনিয়োগ করেছেন এবং তারাই এই সম্পদের মালিক। আরবসহ বারোটি দেশে জিয়া পরিবারের বারো বিলিয়ন ডলার সম্পদ রয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। দেশের দায়িত্বশীল গণমাধ্যম এমন ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার না করায় তিনি গণমাধ্যমকেও তিরষ্কার করেছেন।
ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, বেআইনী ও শাস্তিযোগ্য। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ও প্রতিবাদ করছি এবং অবিলম্বে এই ধরনের মানহানিকর, মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আমরা বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।








