প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আপনার/আমার সকলের মননশীলতার প্রতীক। জাতির সকল গণসংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য, সেখানে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল সবসময়ই শীর্ষে। কিন্তু, বর্তমান সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনটি কিছু ক্ষেত্রে নির্যাতকের এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে যা নিয়ে সরকার বিব্রত হলেও এরা অপ্রতিরোধ্য। শুরু হয়েছিল সাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি বাতিলের দাবি নিয়ে। অহিংস আন্দোলনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীরদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। আন্দোলন রূপ নেয় প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে। গতকাল প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় ছাত্রলীগ সমর্থকরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনেককে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সত্য যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে যে আন্দোলন সেখানেও ছাত্রদল আছে, বাম ছাত্র সংগঠনগুলো আছে, এমনকি কেউ কেউ ছাত্রশিবির আছে বলেও অভিযোগ করছেন। যে দাবিতে তাদের আন্দোলনের শুরু সেটাও যে খুব যৌক্তিক তেমন বলা যাবে না। তবে, সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আছে। সেই শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আন্দোলনের পর ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেয় তারা। বেলা ৩টার দিকে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মী তাদের উপর হামলা চালায়। তারা বলছে, উপাচার্য এবং তার সম্মান রক্ষায় তারা সেখানে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে, কোন হামলা তারা করেনি; বরং ছাত্রলীগ সমর্থকরা পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে। তবে, বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রেজিস্ট্রার ভবনে উপাচার্য কার্যালয়ে অবস্থান নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর রড-লাঠিসহ হামলা চালাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সাম্প্রতিক অতীতেও দেখা গেছে, যখনই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের কোনো দাবি দাওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে তখনই তার বিরোধিতা করে প্রতিপক্ষ হচ্ছে ছাত্রলীগ। অথচ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। সম্প্রতি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর উদযাপন করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে কিংবা যখনই আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকে, তখনই তাদের দেখা যায় বিতর্কিত ভূমিকায়। অতীতের সব গৌরব ম্লান করে দেয় তাদের এসব কর্মকাণ্ড। গতকাল তারা শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করে আবারো প্রমাণ করলো যে, ক্ষমতার ছাত্রলীগ আর ক্ষমতার বাইরে থাকা ছাত্রলীগ এক নয়। আমরা অবিলম্বে এই হামলার বিচার দাবি করছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে । কিন্তু, এ ধরণের কমিটি অতীতে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, এবারও পারবে বলে আমাদের আস্থা নেই। সরকারের উচ্চমহল থেকে এখনই ছাত্রলীগের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিলে সামনের নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ক্ষমতাসীনদের আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই।









