কানাডার টরন্টোতে পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ জনের নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত হয়েছে আরও ১৫ জন।
সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে টরন্টোর ইয়ংগে স্ট্রিট থেকে শুরু হয়ে ফিঞ্চ অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে এই হামলা শেষ হয়। সন্দেহভাজন হামলাকারী ভ্যানগাড়ির চালক পথচারীদের আঘাত করতে করতে প্রায় দেড় মাইলের মতো রাস্তা এগিয়ে যায়।
শেষে পয়েন্টজ অ্যাভিনিউতে গিয়ে পুলিশ ওই গাড়ি থামাতে সক্ষম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী আলী শাকের সিটিভি নিউজকে বলেন, রাইডার ভ্যান জাতীয় গাড়িটি হঠাৎ করেই লাফ দিয়ে ফুটপাতে উঠে যায়। সেখান দিয়ে ওই সময় চলাচলকারী পথচারীরা গাড়ির ধাক্কায় ‘দলামোচড়া’ হয়ে যায় বলেও উল্লেখ করেন শাকের।
গাড়িটি একের পর এক পথচারীকে আঘাত করে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে জানান আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ফিল জুলো।
ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই ভ্যানের চালক অ্যালেক মিনাসিয়ান নামের ২৫ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি রাস্তা থেকে।
ভ্যানটি অ্যালেক মিনাসিয়ান ভাড়া করেছিলেন বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। অ্যালেককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ঘাতক গাড়িটিকে কয়েকটি সড়ক পরে পুলিশ চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে গাড়ির চালক পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে কিছু একটা তাক করছে।
ওই সময় তাকে মাটিতে নিচু হয়ে আত্মসমর্পণ করার জন্য পুলিশকে চিৎকার করে নির্দেশ দিতে শোনা যায়।
সিবিসি নিউজের ভিডিও সম্প্রচারে দেখা যায় গাড়ি চালকের হাতে অস্ত্র জাতীয় কিছু রয়েছে। সেটি উঁচিয়ে তিনি পুলিশকে চিৎকার করে বলছেন: ‘আমাকে মেরে ফেলো!’
অবশেষে কোনো গোলাগুলি ছাড়াই গাড়ির চালক মিনাসিয়ানকে আটক করতে সফল হয় পুলিশ। আর এ সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার প্রশংসা করছেন অনেকে।
টরন্টো পুলিশ উপপ্রধান পিটার ইউয়েন প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দিতে এগিয়ে আসতে বলেছেন। জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ‘দীর্ঘ তদন্ত’ হবে।
হামলার ভুক্তভোগীদের স্বজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য আলাদা আলাদা হটলাইনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টরন্টো সিটি পুলিশ প্রধান মার্ক সন্ডার্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, অবস্থাদৃষ্টে হামলার ঘটনাটিকে ইচ্ছাকৃত বলেই মনে হচ্ছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি।
টরন্টো শহরতলী রিচমন্ড হিলের অধিবাসী অ্যালেক মিনাসিয়ান সম্পর্কে এর আগে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য আসেনি বলেও সাংবাদিকদের জানান পুলিশ প্রধান।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো হামলার ঘটনায় বলেছেন, এই ‘মর্মান্তিক ও অনুভূতিশূন্য হামলা’য় তিনি গভীরভাবে শোকাহত।








